আন্তর্জাতিক

‘ভুল করে’ ৩ জিম্মিকে হত্যা করল ইসরায়েল

নিউজ ডেস্ক১৭ ডিসেম্বর ২০২৩৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরাংশে শেজাইয়ায় আক্রমণ পরিচালনার সময় ‘ভুল করে’ ৩ জিম্মিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যে তিন জিম্মি নিজ সেনাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন, তারা সেনাদের দিকে লাঠিতে সাদা কাপড় বেঁধে এগিয়ে আসছিলেন। এ সময় তাদেরকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে গুলি ছোড়া হয়।

নিহত তিন জিম্মি হলেন ইয়োতাম হাইম (২৮), সামের তালালকা (২২) ও অ্যালন শামরিজ (২৬)। এ ঘটনায় ‘অনুশোচনা’ প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি ‘আন্তরিক সমবেদনা’ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

তবে জিম্মি নিহতের খবর জানার পর ইসরায়েলে বন্দিদের মুক্তির জন্য হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা যে কোনো চুক্তির দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে তেলআবিবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘অবর্ণনীয় দুঃখজনক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস। এতে ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয় এবং প্রায় ২৪০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যায় হামাস। জবাবে ওই দিন থেকেই হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় গতকাল শেষ হিসাব পাওয়া পর্যন্ত ১৮ হাজার ৭৮৭ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে, আহত অন্তত হয়েছে ৫০ হাজার ৮৯৭ জন।

উত্তর গাজার দুটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় ১৪ জন মারা গেছে। গত ২৪ নভেম্বর হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা সাত দিন স্থায়ী ছিল। এই সাত দিনে ১১০ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। তার পরও গাজায় হামাসের হাতে শতাধিক ইসরায়েলি জিম্মি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। এদের মধ্যেই শুক্রবার তিন ইসরায়েলি নাগরিক নিজ দেশের সেনাদের গুলিতে নিহত হলেন। গুলি চালানোর পর সন্দেহ হলে তিন জিম্মির মৃতদেহ ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তাদের পরিচয় জানা যায়।

কেমন করে এ ভুল হলো, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিন জিম্মি নিহতের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই শত শত মানুষ ইসরায়েলের তেলআবিবের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য জড়ো হয়। তারা মিছিল করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। সেখানে সমাবেশ করে বাকি জিম্মিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তি করতে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এ সময় তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে ও প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেখানে জড়ো হওয়া জিম্মিদের আত্মীয়-স্বজন দাবি জানান, এখনো যারা গাজায় আটকে আছেন, তাদের উদ্ধারে যেন হামাসের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া অনেককে প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়।

একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘প্রতিদিন, একজন জিম্মি মারা যাচ্ছে।’ ইতাই এসভিরস্কি নামের এক জিম্মির বোন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি ভয়ে মরে যাচ্ছি। আমরা এখনই চুক্তি (যুদ্ধবিরতি) চাই।’

এ ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সপ্তাহের শুরুতে মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়াকে কাতার ভ্রমণে নিষেধ করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে নিউজ সাইট ওয়ালা জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এ ঘটনার পর থেকেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন এবং এই সপ্তাহান্তে ইউরোপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে দেখা করার জন্য বার্নিয়া পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। তারা আরেকটি জিম্মি বিনিময় চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে পারেন।

 

 

ট্যাগ: