সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
‘বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনো শহর’ বণিক বার্তার শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, বড় বড় অবকাঠামো কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনো শহরকে বাসযোগ্য ভালো শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না। আরো প্রয়োজন হয় দূষণমুক্ত পরিবেশ, মানসম্মত নাগরিক সেবা, সুশাসন ও টেকসই অর্থনীতির।
কিন্তু এসব সূচকে পিছিয়ে থাকায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের। বরং বছরের ব্যবধানে দেশের বড় শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও নিচে নেমেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের আটটি শহরের মধ্যে এগিয়ে থাকা ঢাকার অবস্থান ৫১৫তম।
এ ইনডেক্সে গত বছর ঢাকা ছিল ৪৮২তম অবস্থানে। বছরের ব্যবধানে এ শহর পিছিয়েছে ৩৩ ধাপ। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ঢাকা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ৫ সূচকের মধ্যে আছে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন ব্যবস্থা।
ঢাকার সঙ্গে পিছিয়েছে দেশের অন্য বড় শহরগুলোও। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে রাজশাহী। ৬৬ ধাপ নেমে শহরটির অবস্থান এখন ৭৭৯তম।
চট্টগ্রাম ১৪ ধাপ পিছিয়ে ৭৬৩তম হয়েছে। খুলনা রয়েছে ৮১১তম, সিলেট ৮৩৪ ও ময়মনসিংহ ৮৯৫তম অবস্থানে। বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম হয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে শুধু কুমিল্লা আগের বছরের অবস্থান ধরে রেখেছে। শহরটির অবস্থান ৮৮৩তম।
খবরে বলা হচ্ছে, ৫ই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর পরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপি’র তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় দলীয় হাইকমান্ড। অপকর্মে জড়িত কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে করা হয় বহিষ্কার। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় আইনি পদক্ষেপও।
কিন্তু দল ক্ষমতায় আসার পর ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসব বহিষ্কৃত নেতাকর্মী। বহিষ্কারের পরও তারা ব্যবহার করছেন দলের পরিচয়। নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে অংশ নিচ্ছে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দখল, চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবিতে জড়াচ্ছেন তারা। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকে প্রশাসনও। ফুটপাথ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাজার থেকে বালুমহাল- যেখানে অর্থ, সেখানেই আধিপত্যের লড়াইয়ে নামছে এসব বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।
আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিচ্ছেন নিজ দলের কর্মীরাই। ফুটপাথ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, আবাসন, জমি, বাজার, টেন্ডার- এসব খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে ঘটছে একের পর এক খুন। সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
যদিও এ ঘটনায় দ্রুতই ব্যবস্থা নেন সরকারপ্রধান। দলীয় এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে তিনি অনন্য এক নজির তৈরি করেন। অপকর্মে জড়িত নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের পাশাপাশি করা হয় গ্রেপ্তার। গত চার দিনে ৪১ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।









