নওগাঁ

বালুর পরিবর্তে লাল মাটিতে মাঠ ভরাট

নিউজ ডেস্ক১২ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নওগাঁর মান্দায় নির্মীয়মাণ মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। মাঠের নিচু জায়গা ভরাটে বালুর পরিবর্তে লাল মাটি এবং অন্যান্য কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

প্রকল্পটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ডে থাকা তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর আওতায় ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ মান্দা উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ৯ মাস। চুক্তিমূল্য ধরা হয় পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা।
সম্প্রতি সরেজমিনে স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে তিনটি গ্যালারি এবং একটি অফিস কাম ভিআইপি গ্যালারি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কোনো নির্মাণ শ্রমিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো রড, সিমেন্ট আর বালুর ঢালাই দিয়ে অবকাঠামো দাঁড় করানো হলেও পুরো কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

তাদের অভিযোগ, মাঠ ভরাটকাজে বালুর পরিবর্তে লাল মাটি ব্যবহার করা হলে তাতে পানি জমে থাকবে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটি কোনো কাজেই আসবে না।
বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, মিলন নামের একজন লোককে মাঝেমধ্যে দেখা যায়। তিনি ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছেন।

সেই কাজটিও থমকে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্প শুরুর দুই বছর পার হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এখনো স্টেডিয়ামের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। তদারকি না থাকায় নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের পুরনো রড, ইটের খোয়া ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। মাঠ ভরাটকাজেও শিডিউলের বাইরে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে লাল মাটি। স্থানীয়ভাবে ইউএনও কিংবা উপজেলা প্রকৌশলী কেউ কিছুই বলতে পারেন না এই নির্মাণকাজ সম্পর্কে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকিউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মিলন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিডিউল সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয় সেভাবেই কাজ করছি।’

এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মিলন হোসেন। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর দিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ব্যয় বেড়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা। আগামি জুন মাসের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাটি দিয়ে মাঠ ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ হয়ে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাজ এটি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই।’