সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সন্তান স্কুলে পৌঁছেছে কি না—এখন আর অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হয় না অভিভাবকদের। বিদ্যালয়ের ফটকে হাজিরা দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মোবাইল ফোনে পৌঁছে যায় খুদে বার্তা।
শুধু প্রবেশ নয়, ছুটির পর শিক্ষার্থী কখন বিদ্যালয় থেকে বের হলো, সেই তথ্যও চলে যায় অভিভাবকের ফোনে। ফলে বাড়িতে বসেই সন্তানের স্কুলে যাওয়া-আসার সময় জানতে পারছেন তারা।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের শতবর্ষী জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় আট বছর ধরে চলছে এমন ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইডি কার্ডের মাধ্যমে হাজিরা নেওয়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির তথ্য।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়। পরের বছর ২০১৯ সালে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয় শিক্ষার্থীদের। এর পর থেকে প্রতিদিনের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি এবং মাসিক হাজিরার হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হাজিরা দেয়।
কেউ বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দেয়, আবার কেউ আইডি কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করে। সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতির তথ্য খুদে বার্তার মাধ্যমে পৌঁছে যায় অভিভাবকের মোবাইলে।
কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না এলে অনুপস্থিতির বার্তাও চলে যায়। একইভাবে ছুটির পর বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময়ও বায়োমেট্রিক বা আইডি কার্ডের মাধ্যমে প্রস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। ফলে শিক্ষার্থী কখন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে এবং কখন বের হয়েছে, সেটিও জানতে পারেন অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল হাজিরা চালুর পর শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের নজরদারিও বেড়েছে। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় সম্পর্কে তারা নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন।’
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ‘১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে রয়েছেন ৩৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আগে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন তা অনেকটাই কমেছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় বায়োমেট্রিকের তথ্য মুহূর্তেই অভিভাবকের মোবাইলে চলে যাওয়ায় তারা আরো সচেতন হয়েছেন।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার কমার পাশাপাশি নিয়মিত উপস্থিতিও বেড়েছে।’









