সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সাম্প্রতিক অবনতি, বিপুলসংখ্যক শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইয়াং উইমেন ফর ডেভলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডাব্লিউডিআরসি)।
আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবাদসভার আয়োজন করে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিল নারী উন্নয়ন শক্তি এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, পিপুল হেলথ মুভমেন্ট, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ারস অ্যাসোসিয়েশন ও শিলিডের নেতৃবৃন্দ।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম সরকারের গাফিলতির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
টিকা সরবরাহে বিঘ্ন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সীমিত পৌঁছানোর ফলে প্রায় ৪ লাখ শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটিও টিকা পায়নি।
এ ছাড়া হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান ঘটছে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতিবছর প্রায় ৯৪ হাজার শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব, যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াইডাব্লিউডিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুলতানা নুসরাত আফরোজ।
তিনি বলেন, ‘টিকাদান কার্যক্রমে এই ধরনের ভাঙন একটি ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুমৃত্যুর হার বহুগুণ বেড়ে যাবে। জাতীয় বাজেটে মা ও শিশু স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।’
সভায় নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাই, শতভাগ শিশুর সব টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
’
পিপুল হেলথ হেলথ মুভমেন্টের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ‘যারা শিশুদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।’
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, ‘শিশুর জন্মের পর থেকে সব টিকা প্রতিটি শিশুর অধিকার, সরকারকেই এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-এর সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’
ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা হক বলেন, ‘শিশু স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’
সিলিডসের সদস্য সেলিনা আক্তার বলেন, ‘ইপিআই প্রোগ্রাম পুনরায় চালু করতে হবে।
’
সভায় আরো অনেকে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, শহরের বস্তি, দুর্গম এলাকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি।









