জাতীয়

এইচএসসির ফলাফল অভাবকে জয় করে জিপিএ ৫ পেলেন যমজ বোন

নিউজ ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সংসারে অভাব, বাবার বেকারত্ব, পড়াশোনার খরচ জোগাতে মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম। এসব অভাবকে জয় করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন যমজ বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার।

তাদের এই অর্জন শুধু জিপিএ ৫-এর গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন মায়ের নির্ঘুম রাত, বাবার অশেষ কষ্ট, শিক্ষকদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা আর দুই বোনের অদম্য চেষ্টা।
রহিমা ও রাবেয়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী। কলেজটির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। আর সেই দুজনই রহিমা ও রাবেয়া।
রহিমা ও রাবেয়া জানান, সংসারে অভাব, বাবার বেকারত্ব, পড়াশোনার খরচ জোগাতে মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম দেখেছেন তারা। কখনো শিক্ষকের সহযোগিতা, কখনো উপবৃত্তি-এভাবেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাদের।

 

মেয়েদের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার দুই বোনের মধ্যে একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ ভর্তি ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা উপবৃত্তিও পেয়েছে।

সবার সহযোগিতা না পেলে হয়ত মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।’
নিজেদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা জানিয়ে রহিমা ও রাবেয়া বলে, ‘বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া দাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম, ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজারহাট উপজেলার ১৪টি কলেজের মধ্যে এই যমজ দুই বোনই মানবিক শাখা থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। তাদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।’