জাতীয়

পার্বত্য ভূমি কমিশন চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা কমেছে

নিউজ ডেস্ক১ আগস্ট ২০১৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদনের মাধ্যমে কমিশন চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা কমিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই আইনের খসড়ার অনুমোদনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে ভূমি নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি হবে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আরো সক্রিয় ও কার্যকর হবে বলে মনে করছে সরকার। সভা শেষে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা কমেছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে।’

তিনি জানান, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে আইনটিতে ২৩টি সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর সেগুলো পর্যালোচনা করে পারস্পরিক আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ১৪টি সংশোধনী অনুমোদন করা হয়।

এ ছাড়া আইনের সংশোধনীতে একটি নতুন ধারা সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের দপ্তরে সচিব বা অন্যান্য কর্মকর্তার পদে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা অগ্রাধিকার পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ আইনের অধীনে গঠিত কমিশন ছিল চেয়ারম্যানসহ নয় সদস্যের। আইন অনুযায়ী নয়জনের মধ্যে তিনজন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হতো। এখন সেখানে একজন বাড়িয়ে কোরামের জন্য চারজন সদস্য করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত আরো কার্যকর করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আপাতত অর্ডিন্যান্স আকারে চালু হবে। যখন সংসদ বসবে তখন আইনে পরিণত হবে। আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট তিন পার্বত্য জেলা সার্কেলের তিন রাজা, বিভাগীয় কমিশনারসহ মোট নয়জন এই কমিশনের সদস্য হবেন।

শফিউল আলম জানান, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের দাবি অনুযায়ী এ আইন সংশোধন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১২টি ধারায় পরিবর্তন এসেছে।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় ভূমি বিরোধ নিয়ে যে অচল অবস্থা ছিল, এ সংশোধনীর ফলে তা নিরসন হবে। শিগগিরই এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে। তিন পার্বত্য জেলা সার্কেল হলো- বান্দরবানের মং, রাঙ্গামাটির চাকমা ও খাগড়াছড়ির ত্রিপুরা।

সূত্র: রাইজিংবিডি