জাতীয়

দখল-দূষণে কাবু বালু ও তুরাগ নদ

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

তুরাগ ও বালু নদের ‍দুই তীরের ভূমির ৮৫ কিলোমিটার অংশের দায়িত্বে টঙ্গী নদীবন্দর। তবে বন্দরের আওতায় থাকা ৯৪ একর তীরভূমির মধ্যে ১৫ একর অবৈধ দখলে।

এ ছাড়া দুই শতাধিক কারখানার বর্জ্য নদের পানি দূষিত করছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তুরাগ নদের তীরভূমির বেশ কিছু অংশ ঘুরে দেখার একপর্যায়ে টঙ্গী নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়।

অনুসন্ধান বলছে, একসময় স্বচ্ছ পানির প্রবাহ আর জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ছিল তুরাগ নদ। সময়ের সঙ্গে দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার চাপে নদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে।

নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে নানা অবৈধ স্থাপনা। অনেক জায়গায় নদের পাড়ে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।
সরেজমিন দেখা যায়, নদের তীরের একাংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য।

পানিতে ভাসতে দেখা যায় এসব বর্জ্য। এতে নদের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব।
টঙ্গী নদীবন্দর সূত্র জানায়, আশুলিয়ার দৌড় সেতু থেকে ঢাকার ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদ ও বালু নদীর দুই তীরের ৮৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে টঙ্গী নদীবন্দরের আওতায়। এর ৯৪ একর তীরভূমির মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ১৫ একর তীরভূমি (ফোরশোর)। মোট তীরভূমির মধ্যে গাজীপুরে ২৭ একর, ঢাকা জেলায় ৩৮ একর ও নারায়ণগঞ্জে ২৯ একর।

সূত্র জানায়, তুরাগ ও বালু নদের তীরভূমিতে গাজীপুরে ৫০, ঢাকায় ৭৫ ও নারায়ণগঞ্জের ২৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদের পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। ২০২৫ সালে অভিযান চালিয়ে আট একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় একটি মামলাও রুজু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীদখল ও দূষণ বন্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান ও নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। নিয়মিত বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং নদীতীরের অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকায় সংকট আরো বাড়ছে।

তুরাগ নদের মিরাশপাড়া ঘাটের চায়ের দোকানি ফোরকান মিয়া বলেন, ‘নদীর পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পানি পরিষ্কার হলে পরিবেশ ভালো হবে।’

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিন অরণ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, একটি নদী শুধু পানিপ্রবাহ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। তুরাগকে বাঁচাতে হলে দখলদার উচ্ছেদের পাশাপাশি দূষণের উৎস বন্ধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নদীর তীর সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, রাজধানী ঢাকার চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ শেষ করে নদীতে ওয়াটার বাস চালু করা হবে। শুকনো মৌসুমে নদীর তলদেশে জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে ইটিপি বাধ্যতামূলক করে কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলার পথ বন্ধ করা হবে বলে জানান সহকারী পরিচালক। তিনি বলেন, এতে নদের পানি পরিষ্কার যাবে। পরিস্কার পানিতে পয়েন্ট করে ওয়াটার বাস স্টেশন করা হবে। এ জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি করে কাজ শুরু করেছে সরকার।