জাতীয়

উপকূলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার দাবি

নিউজ ডেস্ক১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

উপকূলীয় এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় আয়োজিত সাইকেল র‌্যালি ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পাইকগাছার মাহমুদ কাটীর অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশের আগে হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সাইকেল র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি, কাশিমনগর এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রচার চালানো হয়।

সচেতন সংস্থার সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

 

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। উপকূলজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, উপকূলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রচুর জমি রয়েছে। রামপাল ও মাতারবাড়ীর মতো বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যমান জমি কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া উপকূলের বেড়িবাঁধ ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা যেতে পারে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণও বাড়াচ্ছে। দূষণের কারণে সোলার প্যানেলে ধুলার স্তর জমে এর কার্যক্ষমতা কমে যায়।

ফলে দূষণ কমানো গেলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা—দুটিই বাড়বে।
তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে দেশের নিজস্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে হবে।\

 

বক্তারা আরো বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট পথনকশা, কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। এ পরিবর্তনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ লক্ষ্যেই ৪২টি সংগঠন যৌথভাবে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীরণ দে, অনির্বাণ লাইব্রেরির সহসভাপতি বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র, উন্নয়নকর্মী এস এম আফজাল হোসেন এবং পরিবেশকর্মী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।