সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ক্যাটাগরি ৪-এর আকার ধারণ করেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মেলিসা। মার্কিন পূর্বাভাসকরা জানিয়েছেন, এটি ক্যাটাগরি ৫-এ পৌঁছাতে পারে। ফলে হাইতি ও জ্যামাইকাসহ উত্তর ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন জাতীয় হারিকেন সেন্টার আরো জানিয়েছে, মেলিসা মঙ্গলবার ভোরে জ্যামাইকার কাছাকাছি বা তার ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অগ্রসর হবে।
এরপর মঙ্গলবার রাতে কিউবা পৌঁছাবে এবং বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব বাহামা পেরিয়ে যাবে।
কেন্দ্রের উপ-পরিচালক জেমি রোম রবিবার বলেছেন, ‘আজ জ্যামাইকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হবে। কয়েক দিন ধরে এই ঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন।’ গতকাল রবিবার রাতে মেলিসা জ্যামাইকার কিংস্টন থেকে প্রায় ১১৫ মাইল (১৮৫ কিলোমিটার) দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কিউবার গুয়ান্তানামো থেকে প্রায় ২৯৫ মাইল (৪৭৫ কিলোমিটার) দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে কেন্দ্রীভূত ছিল।

এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৪৫ মাইল (২৩০ কিলোমিটার) এবং ৫ মাইল (৭ কিলোমিটার) প্রতি ঘণ্টা বেগে পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছিল বলে হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে।
হারিকেন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মেলিসার প্রভাবে জ্যামাইকা এবং দক্ষিণ হিস্পানিওলা, হাইতি এবং ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র তে ৩০ ইঞ্চি (৭৬০ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু কিছু অঞ্চলে ৪০ ইঞ্চি (১,০১০ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। তারা আরো সতর্ক করেছে, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাসহ জ্যামাইকার সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মেলিসা মঙ্গলবার শেষের দিকে কিউবার কাছাকাছি থাকবে। বুধবারের পরে বাহামার দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে ১২ ইঞ্চি (৩০০ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিউবান সরকার গ্রানমা, সান্তিয়াগো দে কিউবা, গুয়ান্তানামো এবং হলগুইন প্রদেশের জন্য একটি হারিকেন সতর্কতা জারি করেছে। এটি লাস টুনাস প্রদেশেও একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা পাঠিয়েছে।
জ্যামাইকার দুটি প্রধান বিমানবন্দর, নরম্যান ম্যানলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মন্টেগো উপসাগরের স্যাংস্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রবিবার পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় মেলিসা ক্যাটাগরি ৫-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জ্যামাইকান সরকারের দুর্যোগ প্রতিক্রিয়ার নেতৃত্বদানকারী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জ্যামাইকার আরো ৬৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। কর্মকর্তারা আগে বলেছিলেন, দ্বী জুড়ে গুদামগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত বিতরণের জন্য হাজার হাজার খাদ্য প্যাকেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জ্যামাইকার আবহাওয়া পরিষেবার প্রধান পরিচালক ইভান থম্পসন বলেছেন, ঝড়ের তীব্রতা মূলত দ্বীপের দক্ষিণ দিকেই প্রত্যাশিত।
সূত্র : আরব নিউজ।









