নাটোর

লালপুরে নিখোঁজ আলতাফকে উদ্ধারের দাবিতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন-সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক১৮ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামের আনছারের ছেলে আলতাফ আলী নিখোঁজের ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ আলতাফকে সুস্থ শরীরে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে  উপজেলার সাতপুকুরিয়া মোড়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ দিন আগে সাতপুকুরিয়া মোড় থেকে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের সহযোগিতায় সুমির মিস্ত্রি নামের এক ব্যক্তি আলতাফকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে পাবনা জেলার আড়কান্দি এলাকায় ফার্নিচারের মালামাল ডেলিভারি দিতে যান। মালামাল রেখে সুমির মিস্ত্রি সাতপুকুরিয়ায় ফিরে এলেও আলতাফ আর বাড়ি ফেরেননি।

পরবর্তীতে নিখোঁজের পরিবার ও এলাকাবাসী সুমির এবং লিটনের কাছে আলতাফের খোঁজ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো আলতাফকে খোঁজাখুঁজির নামে তারা ‘মিথ্যা নাটক’ ও অভিনয়ের আশ্রয় নেন। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে আলতাফের সন্ধান না পেয়ে গত ৪ অক্টোবর লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানায় জিডি হওয়ার পর থেকেই সুমির মিস্ত্রি তার ফার্নিচারের দোকান বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের কথাবার্তাতেও নানা অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ আলতাফের বাবা বাদী হয়ে গত ১৪ অক্টোবর লালপুর থানায় সুমির মিস্ত্রি ও লিটনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন নিখোঁজ আলতাফের পিতা আনছার আলী।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তা, পরিবার ও এলাকাবাসী আলতাফকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর আইনি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত সুমির বলেন শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে দোকান বন্ধ রয়েছে ও আলতাবের লোকজনদের হুমকির কারণে দোকানে যায়নি।  লিটন জানান সুমির ও আলতাফ আড়কান্দি থেকে ফিরে সাতপুকুরিয়ায় এসে বাড়ি গিয়েছে এটা সুমির আমাকে বলেছে।

এ ব্যাপারে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। নিখোঁজ আলতাফ আলীকে উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।”