জাতীয়

অনুমোদনের ৭ বছরেও হয়নি দাশেরহাট বাইপাস সড়ক

নিউজ ডেস্ক৮ অক্টোবর ২০২৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

একনেকে অনুমোদন পেয়েছে সাত বছর আগে। কাজও শুরু হয় এর বছর দুয়েক পর।

তবে কালভার্ট নির্মাণের পর থেকে যায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়কের কাজ।
ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ার কারণে ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ বন্ধ থাকায় বাড়ছে জনভোগান্তি। কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসন ও সোনাহাট স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজতর করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পটি অনুমোদন পায় একনেকে।

সড়কটির অন্তর্ভুক্ত বীরপ্রতীক তারামন বিবির থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক। বাইপাস সড়কটির জন্য প্রায় ৪১ একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয় ১০১ কোটি টাকা। আর সড়ক নির্মাণে ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই ২০২১ সালে ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরু করা হয়।

কাজের দায়িত্ব পায় এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার প্রাইভেট লিমিটেড ও মো. আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড জেভি। মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দুটি কালভার্ট নির্মাণ ছাড়া আর কিছুই করেনি।
এদিকে, সড়কের গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা কারণে সময়মতো কাজ না হওয়ায় ২০২৫ সালে আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক বিভাগ। এবার দায়িত্ব পায় শুধু আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড।

কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের জুন মাস। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থমকে আছে প্রকল্পের কাজ।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পর তিনটি কালভার্ট ও তারামন বিবির মোড়ে ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন করে। এরপর কাজ চলছে ধীর গতিতে।

জমির মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহণ করা জমির নোটিশ পাওয়ার পর কাগজপত্র জমা দিয়েও অধিগ্রহণের অর্থ পাচ্ছেন না অনেকে। সদর উপজেলার চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বিপুল চন্দ্র রায় জানান, তার নামের ভুল সংশোধন করে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অধিগ্রহণের অর্থ পাননি। এ কারণে সরকারকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে পারছেন না ওই গ্রামের বাবলু চন্দ্র সরকার, প্রদীপ চন্দ সরকার, সবুজ চন্দ্র সরকারসহ অনেকেই।

 

একই গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল হক জানান, বর্তমানে এই এলাকার জমি এক থেকে দেড় লাখ টাকা শতক বেচাকেনা হলেও সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। তিনগুণ অর্থ দিলেও শতকে ৩৬ হাজার টাকার বেশি পাচ্ছেন না তারা। তাই ছয় মাস আগে নোটিশ পেলেও কাগজপত্র জমা দেননি তিনি।

কুড়িগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শেখ মাহবুবে সোবহানীর ভাষ্য অনুযায়ী, নামজারি, মালিকানা ও মামলাসহ নানা কারণে দেরি হলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদনকারীদের পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বাইপাস সড়কটি নির্মাণে দেরি হওয়ায় বিদ্যমান সড়টি ভেঙে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার চেরেঙ্গা গ্রামের অটোচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, ছয় বছর ধরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা শুনছেন, কাজের অগ্রগতি নেই। পুরনো সড়কটি দিয়ে অটোরিকশাও চালানো যাচ্ছে না। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলা কোনোভাবেই এই সড়কে চলাচল করা সম্ভব না।

স্কুলশিক্ষক শাহজাহান মিয়ার ভাষ্য, সড়কটি চালু হলে শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য প্রসারের আশা করছে এলাকাবাসী।

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা বলছেন, মূলত জমি অধিগ্রহণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জমির মালিকরা পজেশন ছেড়ে দিচ্ছে না। একারণে থেমে আছে বাইপাস সড়কটির কাজ। এই প্রক্রিয়া আরো দেরি হলে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বীরপ্রতীক তারামন বিবি মোড় থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়কটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।