সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজার। চা-বাগান, পাহাড়-টিলা, বন, হাওর, ঝরনা ও লেকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ জেলার পর্যটন সম্ভাবনা দেশজুড়ে পরিচিত।
শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক ও হামহাম জলপ্রপাত, বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। তবে বিপুল সম্ভাবনার বিপরীতে নানা অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সংকটে জেলার পর্যটন খাত কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না।

জেলায় ৯৩টি চা বাগান আর ফাইভ স্টার হোটেল রিসোটসহ সব মিলিয়ে ২০০টি বেশি রয়েছে। এসবের মধ্যে অধিকাংশই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায়।
পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার ঘাটতি। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বসার স্থান, নিরাপদ পার্কিং ও তথ্যকেন্দ্র নেই। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বেড়ে গেলে যানজট ও পার্কিং সংকটও দেখা দেয়।
দূরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় চ্যালেঞ্জ।
কোথাও রাস্তার মান খারাপ, আবার কোথাও পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা নেই। ফলে নতুন পর্যটকদের অনেক সময় স্থানীয়দের ওপর নির্ভর করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে বিভিন্ন স্পটে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেট ফেলে রাখার ঘটনা ঘটে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকলে এসব বর্জ্য হাওর, বন ও জলাশয়ের পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও হাকালুকি হাওরের মতো জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকায় পর্যটন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, শব্দদূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে পরিবেশ সচেতন মহলের।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে জেলাটিকে ‘পর্যটন জেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরেও এর কোনো আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়নি। ২০০৯ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা হিসেবে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তা আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি ২০১৭ সালে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে একটি কর্মকৌশল (অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়ন করা হলেও প্রায় এক দশকেও তা বাস্তবায়িত হয়নি; পরিকল্পনাটি কেবল ফাইলবন্দিই রয়ে গেছে।
এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম থাকলেও সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোকে আলাদাভাবে উন্নয়ন না করে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার দাবি তাদের।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির সংযোগ আরও বাড়ানো দরকার। চা, স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ানো সম্ভব।









