সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
নাটোরের লালপুরের যে পদ্মার চর, তার বালুময় জমিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে; গড়ে উঠছে নতুন সম্ভাবনাময় কৃষিব্যবস্থা। উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরে বসানো হয়েছে পলিনেট শেড হাউস।
সম্প্রতি ওই পলিনেট শেড হাউসে ট্রে পদ্ধতিতে উন্নত মানের সবজির চারার উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘চর এলাকায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) আওতায় প্রায় ২০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পলিনেট শেড হাউসে আধুনিক ট্রে পদ্ধতি ব্যবহার করে ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা চলবে বছরজুড়ে।
সূত্র আরো জানায়, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো—এতে উৎপাদিত চারা হয় রোগমুক্ত, সবল এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষিত। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনিশ্চিত আবহাওয়া ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় এই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপকারভোগী কৃষক মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পলিনেট শেড হাউসে উৎপাদিত চারা তারা কৃষক গ্রুপের সদস্যদের কাছে কম দামে সরবরাহ করছেন। একই সঙ্গে বাজারে এসব চারা উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে পারছেন, যা তাদের আয় বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চারাগুলো যেমন রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান, তেমনি বৈরী আবহাওয়া থেকেও রক্ষা পাওয়ার উপযোগী। ফলে কৃষক সারা বছর চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান জানান, উপকারভোগী কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় তাদের জন্য ৫০০টি ট্রে, ৩০০ কেজি কোকোডাস্ট এবং একটি পলিশেড হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা টেকসইভাবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল পলিনেট শেড হাউস পরিদর্শন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, চরাঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির এ ধরনের ব্যবহার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।









