সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
নির্মাণকাজ করা হয়েছে মাত্র তিন বছর হলো। সড়কটির পাশেই একটি দীর্ঘ জলমহাল।
দুই দিন আগে জলমহালের ওই স্থানের একটি অংশ গাছসহ ধসে পড়ে। ফাটল ধরে আরো ১০০ মিটার অংশে। যে কোনো সময় ফাটলের অংশও ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়নের বান্দ্রা বাজার হয়ে উল্টাখালী যাওয়ার পাকা সড়কের অন্তত সাত মিটার অংশ ধসে পড়ার এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার।

এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) সূ্ত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বান্দ্রা বাজার থেকে উল্টাখালী সড়কের এক কিলোমিটার অংশ নির্মাণ কাজ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৮২ লাখ টাকা।
স্থানীয়রা জানায়, সড়কটির পাশেই বান্দ্রা জলমহাল যা ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম।
তাদের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের সময় জলমহালের পাশ দিয়ে পাইলিং করার জন্য সেখানকার পানি সেচের মাধ্যমে শুকিয়ে দেওয়ার জন্য ইজারাদারকে অনুরোধ করেন ঠিকাদার ও এলাকাবাসী। কিন্তু ইজারাদার পানি সেচ করে না দেওয়ায় ঠিকাদার কোনোরকম পাইলিং করে নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভারি বৃষ্টিতে সড়কের ওই স্থানে অন্তত সাত মিটার গাছসহ ধসে পাশে থাকা মাছের ঘেরে পড়ে। এ ছাড়া পাশের অন্তত ১০০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। যে কোনো সময় ফাটলের অংশও ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ভাষ্য, ‘কালাম হাওলাদারের মাছের ঘেরের কারণে সড়কটি ধসে পড়তেছে। আমরা ওই মাছের ঘেরের লিজ বাতিল চাই।’
মো. ইউনুছ, সোহাগসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই মাছের ঘেরের কারণে সড়ক ধসে পড়েছে। কয়েক জায়গায় ফাটল ধরেছে। যে কোনো সময় তা ধসে পড়তে পারে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়কের সাত-আট মিটার অংশ গাছসহ পাশে থাকা মাছের ঘেরের মধ্যে ধসে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে এখন যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ ব্যাপারে জলমহালের ইজারাদার আবুল কালাম বলেন, ‘আমি তিন বছরের জন্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে সরকারের কাছ থেকে মাছ চাষের জন্য জলমহাল ইজারা নিয়েছি। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় সড়কের পাশে থাকা গাছসহ সড়কটির একাংশ আমার ঘেরের মধ্যে ধসে পড়েছে। আমি বালি ও খোয়া দিয়ে সড়কটি মেরামত করে দেবো।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সড়কের একাংশ ধসে পড়ার কথা শুনেছি। পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









