সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রিয়জনদের কাছে নিরাপদে পৌঁছানো যায়। ঈদ সামনে রেখে লাখো মানুষ বাড়ির পথে যাত্রা করে—কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ লঞ্চে কিংবা মোটরসাইকেলে।
দীর্ঘ এই সফরে আনন্দের পাশাপাশি থাকে ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। তাই একজন মুমিনের জন্য শুধু বাহ্যিক প্রস্তুতিই নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে সফর শুরু করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সফরের সবচেয়ে নিরাপদ সঙ্গী। তাই ঈদে বাড়ি ফেরার পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া জানা ও আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সফরের শুরুতে যে দোয়া পড়বেন
আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে রওনার প্রাক্কালে বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযু বিকা মিন ওয়া‘সায়িস সাফারে ওয়া কাবাতিল মুনকালিবি ওয়াল হাওরি বা‘দাল কাওরি ওয়া দা‘ওয়াতিল মাজলুমি ওয়া সুয়িল মানজারি ফিল আহলি ওয়ালমালি।
অর্থ : ’হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সফরের ব্যর্থতা, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, নির্যাতিতের বদদোয়া এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের প্রতি কুদৃষ্টি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি।’-(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৮৮)
কারো নিরাপদ সফরের জন্য যে দোয়া করবেন
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি ইচ্ছা করেছি সফরে যাব। তো আপনি আমাকে উপদেশ দিন, তখন মহানবী (সা.) তাঁর জন্য এই দোয়া করেছিলেন।
দোয়াটি হলো-
اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাত্ববি লাহুল বু’দা ওয়াহাওয়্যিন আলাইহিস সাফার।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি তার পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং তার জন্য সফর আসান করে দিয়ো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৩৪৪৫)
মহানবী (সা.) সফরে যে দোয়াটি বেশি পড়তেন
سُبْحَانَ الذي سَخَّرَ لَنَا هذا، وَما كُنَّا له مُقْرِنِينَ، وإنَّا إلى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، اللَّهُمَّ إنَّا نَسْأَلُكَ في سَفَرِنَا هذا البِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ العَمَلِ ما تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هذا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ في السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ في الأهْلِ، اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بكَ مِن وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المَنْظَرِ، وَسُوءِ المُنْقَلَبِ في المَالِ وَالأهْلِ، وإذَا رَجَعَ قالَهُنَّ، وَزَادَ فِيهِنَّ: آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ.
উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হাজা, ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজা বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাউইন আলাইনা সাফারানা হাজা, ওয়াতবি আন্না বুদাহ।
আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মি উয়াসাইস সাফারি ওয়া কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহাল। … আইবুনা, তাইবুনা আবিদুনা লি রব্বিনা হামিদুন।
অর্থ : ওই সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি আমাদের জন্য এই বাহনকে বশীভূত করেছেন। আমরা তা বশীভূত করতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। হে আল্লাহ, এই সফরে আমরা আপনার কাছে কল্যাণ, আল্লাহভীতি ও তোমার সন্তুষ্টিদায়ক আমল চাই। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের এই সফরকে সহজ করুন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনি সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ, আপনার কাছে সফরের কষ্ট, অপ্রীতিকর দৃশ্য এবং ফেরার পর সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। যখন তিনি সফর থেকে ফিরতেন তখনো এই দোয়া পড়তেন এবং অতিরিক্ত বলতেন (অর্থ) : আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী।
হাদিস : আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) যখন সফরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাহনে আরোহণ করতেন, তখন তিনি তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। এরপর (উল্লিখিত) দোয়াটি পড়তেন। এরপর সফর থেকে ফিরেও দোয়াটি পড়তেন এবং অতিরিক্ত দোয়াটি পড়তেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৪২)









