ধর্ম

বাংলাদেশি হাজিরা মক্কায় কয়টি কোরবানি করবেন?

নিউজ ডেস্ক২১ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

হজের প্রতিটি আমলই ত্যাগ, ভালোবাসা ও আনুগত্যের অনুপম দৃষ্টান্ত। আর সেই মহান ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো কোরবানি।

আর বাংলাদেশ থেকে হজে গমনকারী হাজিরা মক্কায় কয়টি কোরবানি করবেন এই বিষয়টি মূলত হাজির অবস্থা, তার হজের ধরন এবং তিনি মক্কায় মুকিম না মুসাফির—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কোরবানি কর।’ (সুরা : কাওসার, আয়াত : ২)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৭)

মূলত যারা হজে কিরান অথবা হজে তামাত্তু পালন করেন, তাদের উপর ‘দমে শোকর’ হিসেবে একটি কোরবানি ওয়াজিব হয়।

এই কোরবানি আল্লাহ তাআলার সেই বিশেষ অনুগ্রহের শুকরিয়া, যার মাধ্যমে একই সফরে ওমরা ও হজ একত্রে আদায়ের সুযোগ লাভ হয়। তাই বাংলাদেশ থেকে যেসব হাজি হজে কিরান বা তামাত্তু পালন করেন, তাদের ওপর অন্তত একটি কোরবানি ‘দমে শোকর’ হিসেবে আবশ্যক।
তবে প্রশ্ন হলো—ঈদুল আজহার সাধারণ কোরবানি তাদের ওপর আবশ্যক হবে কিনা? ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক স্বাধীন, মুকিম ও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানের ওপর ঈদুল আজহার কোরবানি ওয়াজিব। তাই যদি কোনো হাজি মক্কায় পনের দিন বা তার বেশি সময় থাকার নিয়ত করেন, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তিনি মুকিম হিসেবে গণ্য হবেন।

আর যদি তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার ওপর ঈদুল আজহার আলাদা কোরবানিও ওয়াজিব হবে। সেক্ষেত্রে তাকে মোট দুইটি কোরবানি করতে হব—
১. হজে কিরান বা ‘তামাত্তু’র ‘দমে শোকর’
২. ঈদুল আজহার ওয়াজিব কোরবানি

এই দ্বিতীয় কোরবানি তিনি চাইলে সৌদি আরবেই করতে পারেন, আবার নিজ দেশ বাংলাদেশেও করাতে পারেন। কিন্তু যদি হাজী সাহেব মক্কায় পনের দিন থাকার নিয়ত না করেন, তাহলে তিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির থাকবেন। আর মুসাফিরের উপর ঈদুল আজহার কোরবানি ওয়াজিব নয়। তখন তার জন্য শুধু হজের ‘দমে শোকর’ আদায় করলেই যথেষ্ট হবে।

সারকথা হলো—যদি হাজী সাহেব হজে কিরান বা ‘তামাত্তু’ পালন করেন, তাহলে তার উপর একটি ‘দমে শোকর’ ওয়াজিব হবেই। এরপর যদি তিনি মক্কায় পনের দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে মুকিম হন, এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার উপর ঈদুল আজহার আরেকটি কোরবানিও ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে, যদি তিনি মুসাফির থাকেন, তাহলে শুধু হজের কোরবানি আদায় করলেই যথেষ্ট হবে; আলাদা ঈদুল আজহার কোরবানি ওয়াজিব হবে না।(হিদায়াহ, ৪/৪৪৩, (রাদ্দুল মুহতার, ৩/৫৩৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়্যা, ১/২৩৯, ফাতাওয়ায়ে কাজি খান, ১/৩০৪, দুররুল মুখতার, রাদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫)