সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কোরবানির মহান ইবাদত শুধু পশু জবাই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। বিশেষ করে কোরবানির পশুর শারীরিক অবস্থা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ত্রুটি এবং কোন ধরনের পশু কোরবানির উপযুক্ত বা অনুপযুক্ত—এসব বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
কারণ আল্লাহ তাআলার দরবারে উত্তম ও ত্রুটিমুক্ত কোরবানি পেশ করাই একজন মুমিনের কাম্য। তাই কোরবানির পশুর কান, চোখ, দাঁত, শিং, লেজ কিংবা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংক্রান্ত মাসআলা জানা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতা বা অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। এজন্য প্রতিটি মুসলমানের উচিত কোরবানির আগে এ বিষয়গুলোর সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা।

১. রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কোরবানি : এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। তাই কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম। ( আলমগীরী : ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১৪)
২. দাঁত নেই এমন পশুর কোরবানি : যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১৫, আলমগীরি : ৫/২৯৮)
৩. যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে : যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়।
পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কোরবানি করা জায়েজ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৮, রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৪, আলমগীরি : ৫/২৯৭)
৪. কান বা লেজ কাটা পশুর কোরবানি : যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। (মুসনাদে আহমদ : ১/৬১০, ফাতওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫২)
৫. অন্ধ পশুর কোরবানি : যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।
(কাজিখান : ৩/৩৫২, আলমগীরি : ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১৪)
৬. খোড়া পশুর কোরবানি : যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৩, আলমগীরী : ৫/২৯৭)
৭. গর্ভবতী পশুর কোরবানি : গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরুহ। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে এবং কেউ চাইলে এর গোশতও খেতে পারবে। (কাজিখান : ৩/৩৫০)
৮. বন্ধ্যা পশুর কোরবানি : বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৫)
কোরবানি শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান ইবাদত। আর প্রতিটি ইবাদতের মতো কোরবানিতেও শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। তাই কোরবানির পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কিত মাসআলা জানা এবং পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা একজন মুমিনের দায়িত্ব। যে ব্যক্তি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী ত্রুটিমুক্ত ও উপযুক্ত পশু কোরবানি করে, তার কোরবানি অধিক পরিপূর্ণ ও আল্লাহর দরবারে অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ার আশা করা যায়।









