সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
সংস্কারের পর ছয় মাসেই বেহাল হয়ে পড়ে বরগুনার আমতলী- তালতলী ভায়া ফকিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত।
এতে দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার বাসিন্দারা। সড়কটি দ্রুত পুনঃসংস্কারের দাবি তাদের।
স্থানীয়রা জানায়, আঞ্চলিক সড়কটি ঢাকা-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের মানিকঝুড়ি বাজার থেকে কচুপাত্রা বাজার পর্যন্ত গেছে। সড়কটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের সড়কপথের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

তাই নতুন করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, আমতলীর মানিকঝুড়ি বাজার থেকে তালতলীর কচুপাত্রা বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও গর্তে পানি জমে আছে। এসব গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পাথর খোয়া ও সড়কের পিচ উঠে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। সড়কটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করায় দ্রুত বেহাল হয়ে পড়ে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছরের অক্টোবর মাসে আমতলীর মানিকঝুড়ি বাজার থেকে তালতলীর কচুপাত্রা বাজার সেতু পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বার্ষিক জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের কাজ পান বরগুনার ঠিকাদার মো. ছগির হোসেন।
কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে। এরপর ওই বছরের শেষের দিকে কাজ শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও ইট পাথরের খোয়া বের হয়ে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হতে থাকে। তারা জানান, মাস খানেক আগে বাস মালিকরা নিজ উদ্যোগে ওই সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তে ইটের সুরকি ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।
বাসচালক রুহুল আমিন বলেন, সড়ক নির্মাণের অল্পদিনের মধ্যেই তা ভাঙতে শুরু করে। এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে চলাচল করছি। এটি এখন আর সড়ক নেই। যেভাবে গর্ত আর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোটখাটো পুকুর।
আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার হাওলাদার বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে। কাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে সড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদার মো. ছগির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারি যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির ক্ষতি হয়েছে বেশি।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, তবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সংস্কারের জন্য শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, আমার বরগুনা জেলায় যোগদানের আগেই সড়কটির সংস্কারের কাজ শেষ হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি অর্থবছরেই সড়কটি ফের সংস্কারের কাজ শুরু হবে।









