শুরুতে সাবিনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও এখন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার জীবননাশের ঝুঁকি নেই। তবে শিশুটির বাম হাতে আরেকটি অপারেশন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে এক নারী ও এক কিশোর জঙ্গি নিহত হয়। নিহত নারী জঙ্গির আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে আহত হয় তার শিশুকন্যা সাবিনা। এসময় পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করে দুই নারী ও তাদের দুই সন্তান।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির বেডের কাছে একটি পলিব্যাগে কিছু পোশাক আর ওষুধের বোতল। তার মুখে এখনও রয়েছে কালচে দাগ। বাম হাত, পেট এবং পায়ে ব্যান্ডেজ করা। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বললেও, শিশুটি কেবল মাথা নাড়িয়ে তার উত্তর দিচ্ছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়েটি সাধারণত মুখে কথা বলে না। কেউ কথা বললে শুধ মাথা নেড়ে সায় দেয়। সাবিনা কী এখনও তরল খাবার খাচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘আজ (রবিবার, ১ জানুয়ারি) সকালে ডিম, কলা এবং পাউরুটি খেয়েছে মেয়েটি। তবে খেতে চায় না কিছুই, অনেক কসরত করে তাকে খাওয়াতে হয়।’
হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন কেন, প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক নারী পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ওর চোখে মুখে এখনও ভয়, সেদিনের অভিজ্ঞতা আর এরপর বড় একটা অপারেশন। সব মিলিয়ে এখনও বাচ্চাটা ভয় পায়, আমরা আতঙ্ক দেখি ওর চোখে। তাই যতোটা পারি আদর করে রাখি।’
সাবিনার বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর কিছু বলবো না, তবে একজন মা কী করে তার পেটের সন্তানকে এভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে সেটাই এখানকার প্রতিটি মানুষ বলে। একজন মায়ের পক্ষে এটা কী করে সম্ভব?’ এসময় পাশের বেডের এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘মায়ের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে এই নারী। যে নিজের সন্তানকে মায়া করে না, সে কী করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবে, সে কী করে ইসলামের কথা বলে?’
সাবিনার চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আশরাফ উদ্দীন খান বলেন, ‘এখন ও (সাবিনা) আশঙ্কামুক্ত তবে বাম হাতে স্প্লিন্টারের আঘাতে হাড় ভেঙেছে. সেখানে আরেকটি অপারেশন করা হবে।’
ডা. আশরাফ উদ্দীন খান আরও বলেন, ‘দুই থেকে তিনদিন পর ওর আমরা ওর পেটের সেলাই কাটবো, তারপর ওকে স্থানান্তর করা হবে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে। ওর হাতে প্লাস্টিক সার্জারি করা দরকার।’
এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর চার বছরের সাবিনাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টার অপারেশন হয় বলে জানিয়েছিলেন ঢামেকের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. জেসমিন নাহার। মাল্টিপল স্প্লিন্টারের আঘাতে শিশু সাবিনার খাদ্যনালীর বিভিন্ন জায়গা ছিড়ে গিয়েছিলো।
উল্লেখ্য, শিশুটির মা আত্মঘাতি নারী জঙ্গি শাকিরার পেট ও পেটের নিচের অংশ বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলো। বিস্ফোরণের কারণেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে গত ২৫ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে জানিয়েছিলেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন