সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য ও যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম।
তিনি বলেছেন, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের শুধু অন্যের সহায়তার অপেক্ষায় থাকলে চলবে না, বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ১১তম বাংলাদেশ জাতীয় যুব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কালের কণ্ঠের সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মিরাজের সঞ্চালনায় অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সমন্বিত যৌনশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মো. নুর উদ্দিন এবং বরগুনার স্বেচ্ছাসেবক ও পিয়ার লিডার বনি আমিন।
ডা. হালিদা হানুম বলেন, কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না।
আবার স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোও অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দিতে পারে না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে তরুণদের নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে হবে।
তরুণদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাত পেতে চাওয়ার দরকার নেই, দাবি করতে হবে। আমার অধিকার আমাকে আদায় করতে হবে।
’ নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অন্যদের সচেতন করার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রসঙ্গে ডা. হালিদা হানুম বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভাবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অনেক নারী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। পরিবারের অসচেতনতা ও সামাজিক বাধার কারণে অনেক সময় নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। নারীর জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এ কারণে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন টেকসই করতে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
অধিবেশনে সৈয়দ মো. নুর উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তরুণদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নারীর স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।








