অর্থ ও বাণিজ্য

নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির ৫৭ শতাংশই ৫ দেশে

নিউজ ডেস্ক১২ অক্টোবর ২০২৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে রপ্তানির প্রায় ৫৭ শতাংশ। দেশগুলো হলো—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সেই হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১৮১ কোটি ডলার।

এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশের অবদান ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ, নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়লেও তা এখনো কয়েকটি দেশের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে জাপানে। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

অপ্রচলিত বাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এসেছে জাপান থেকে।

 

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। তবে দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে।

 

অন্যদিকে, সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কের বাজারে। দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রপ্তানি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।

 

 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীর্ষ পাঁচ বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তুরস্ক। দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা শীর্ষ পাঁচ বাজারে সম্মিলিত রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশ। তুরস্ককে বাদ দিলে বাকি চার বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি মূলত একটি বাজারের ওপর নির্ভর করেছে।

সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানেও প্রবৃদ্ধির গতি দেখা গেছে। ওই মাসে শীর্ষ পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

 

 

সেপ্টেম্বরে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা বেড়ে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার হয়েছে। জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

তবে সেপ্টেম্বরেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে সামান্য পতন হয়েছে। ভারতে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় কমেছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, নতুন বাজারে রপ্তানির এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি গন্তব্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নতুন বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে একটি বাজারের অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারলে বৈশ্বিক চাহিদার ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবেলা করা সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বাড়ানোর জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য, ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারভিত্তিক বিপণন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতসহ যেসব বাজারে রপ্তানি কমছে, সেসব বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।