
সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে চলছে নির্বাচনী মৌসুম। এসব নির্বাচনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এসব ভিডিওতে সয়লাব। বিশেষজ্ঞরা এ জন্য বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এসব ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ডন গতকাল এ নিয়ে একটি প্রতিবদেন প্রকাশ করেছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে প্রযুক্তি বহুদূর এগিয়েছে। কোথায় এর ধাক্কা লাগেনি? সম্প্রতি নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়েছে। আর এটিকেই নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ সম্পর্কে ভারতে ডিপফেক ভিডিও নির্মাতা দিব্যেন্দ্র সি জাদুন নিজের অভিজ্ঞতার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মূলত সিনেমা ও টেলিভিশনের জন্য ডিপফেক ভিডিও তৈরি করেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেও কাজের অর্ডার পেয়েছেন। তবে তার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি কি নির্বাচনী প্রচারের জন্য ডিপফেক ভিডিও তৈরি করতে পারেন?
গত বছর নভেম্বর মাসে নিজ রাজ্য রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচনে দিব্যেন্দ্র ডিপফেক তৈরির জন্য ডাক পেয়েছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগটি ছিল অনন্য। কিন্তু তিনি সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার কথায়, ডিপফেক ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি এখন অনেক ভালো; কিছুক্ষণের মধ্যেই ভালো মানের ভিডিও তৈরি করা হয়। সাধারণ লোকেরা এটা বুঝতে পারবেন না যেÑ এটি আসল নাকি নকল। এমনকি ডিপফেক সম্পর্কে
কোনো নির্দেশনা না থাকায় হরহামেশাই এসব ভিডিও প্রচারে ব্যবহার হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ডিপফেক ভিডিও ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া গান সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। কিন্তু সেগুলো এআই দিয়ে করা হয়েছে এবং তাতে কোনো সতর্কীকরণ লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানে নির্বাচন ঘিরে ভুল তথ্যও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রযুক্তিবিশারদগণ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ওই নির্বাচন ঘিরে বিরোধী নেত্রী রুমিন ফারহানা ও নিপুণ রায়ের স্বল্প বসনা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নিলেও এখনো ভিডিওগুলো সহজলভ্যই রয়ে গেছে। এ সম্পর্কে জাহাঙ্গীনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আল-জামান বলেছেন, এখানে নিম্নমানের ডিপফেক সামগ্রীও মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তথ্য ও ডিজিটাল শিক্ষার মান নিম্নপর্যায়ে থাকায় ডিপফেক ভিডিওগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে দেশে কারাবন্দি নেতা ইমরান খান ডিসেম্বর মাসে এআই প্রযুক্তি দিয়ে অনলাইনে নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে এআই দিয়ে তার কণ্ঠস্বর ক্লোন করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান এআই বিষয়ে খসড়া আইন করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটিতে ২০০ মিলিয়নের বেশি নথিভুক্ত ভোটার রয়েছে। দেশটিতে ব্যাপকমাত্রায় ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।








