সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসার জন্য ডেকে নিয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল রবিবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন–কপিলমুনি কাশিমনগর এলাকার অনিমেশ বিশ্বাসের মেয়ে শিপ্রা বিশ্বাস (৩২) ও একই এলাকার দেবব্রত বিশ্বাসের ছেলে অনুপ বিশ্বাস (৩৬)। এ ঘটনায় রাজু নামে আরো এক যুবককে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের ওই গৃহবধূ অসুস্থ ছিলেন।
চিকিৎসার বিষয়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রাজু নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রাজু নিজেকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজু ওই গৃহবধূকে কয়রা থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসককে দেখানো সম্ভব হবে না জানিয়ে তাকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়।
সেখানে মা-বোনের সঙ্গে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাতে বাসায় থাকা এক নারীর সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজু তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি বাসায় থাকা ওই নারীকে জানালে তাকে গালাগাল করেন এবং মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ওই রাতে রাজুসহ আরেক যুবক তাকে দফায় দফায় ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধূ কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় তালা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক বলেন, ‘অচেতন করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক ও এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার মামলা রেকর্ডের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। মামলাটি তালা থানার ১০ নম্বর মামলা, তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৬। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’









