সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ যাত্রী।
আহতদের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সেনা ক্যাম্পের অদূরে সেগুন বাগান এলাকার একটি বিপজ্জনক বাঁকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই মাহেন্দ্রর যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের ফাঁসিয়াখালীর সেগুন বাগান এলাকার বাঁকে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গাগামী যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রর (হিউম্যান হলার) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রটি। এ সময় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন। স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে মারা যান আরো দুই নারী যাত্রী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিয়াকাটা গ্রামের মকতুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ কালু (৪২) ও তাঁর মেয়ে রিনা আক্তার (১৯), একই এলাকার জবুর আহমদের স্ত্রী কালা খাতুন (৫০) এবং চকরিয়া পৌরসভার পূর্ব নিজপানখালী গ্রামের মো. ইলিয়াছ খানের ছেলে মো. আলী রিয়াজ রায়হান খান (২৩)।
আহতরা হলেন চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা খামার পাড়ার আবুল হাসেমের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৪), বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালীর হারগাজার আলী হোসেনের ছেলে হেফাজ উদ্দিন (১২), চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বেতুয়া বাজার মাইজপাড়ার নুরুল আলমের ছেলে জৈনবুন্নেছা (১৯), নুরুল হোছাইনের মেয়ে নূরী জন্নাত (১৯) এবং মাহিন্দ্রাচালক খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া সাতগরিয়া গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে বদি আলম (৫০)। এ ছাড়া নিহত কালুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম (৭), শিশু সাকেরা বেগম (৮) এবং খাইরুন নেছাসহ (৩০)। বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তাদেরকে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও সার্জেন্ট মো. আশিকুর রহমান বলেন, “জুমার নামাজ চলাকালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে দুজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো দুই নারী মারা যান। আহত হন আরো ১০ জন যাত্রী। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ”
সূত্র: কালের কণ্ঠ









