জাতীয়

এক যুগ পরও টার্মিনাল খালি, পার্কিং মহাসড়কে

নিউজ ডেস্ক১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাস টার্মিনাল রয়েছে। যাত্রী ওঠানামা ও বাস রাখার জন্য নির্ধারিত জায়গাও রয়েছে।

নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। অথচ টার্মিনাল পড়ে আছে, আর ব্যস্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেই পার্কিং করা হচ্ছে বাস।
ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না- তা নিয়ে প্রশ্নই উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনাল নির্মাণের পরও বাস মালিক-শ্রমিকদের একটি অংশ সেখানে বাস না রেখে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের পাশে বাস দাঁড় করিয়ে রাখছেন।

নির্দিষ্ট স্টপেজের পরিবর্তে সড়কেই যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একই স্থানে একাধিক বাস দাঁড়ানোর কারণে সেখানে সৃষ্টি হচ্ছ যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসদর অংশে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পটিয়া পৌরসভার গিরিশ চৌধুরী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে নির্মিত বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০১৪ সালের নভেম্বরে শেষ হয়।

এরপর উদ্বোধন করা হয় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর। এর পর কেটে গেছে প্রায় এক যুগ। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে টার্মিনালটি পটিয়ার যানজট নিরসনে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
এদিকে, পটিয়া শহরের ব্যস্ততম অংশে বিভিন্ন রুটের বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর দৃশ্য এখন অনেকটাই নিয়মিত। বাস থামার পর পেছনে থাকা গাড়িগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপরীত লেন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এগোতে হয় ছোট যানবাহনকে।
একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস দাঁড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে। বাসের আড়ালে পথচারী সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে দেখা দেয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

এ ব্যাপারে পটিয়া বাস মিনিবাস মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পৌর বাস স্টেশনে বাস রাখার পরিবেশ নেই। সেখানে নেই নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত আলোর। পাশাপাশি সেখানে বড় বড় খানাখন্দ। তাছাড়া সেখানে গাড়ি রাখলে যন্ত্রাংশ চুরি হয়। তাই নিরাপত্তার অভাবে সেখানে কেউ গাড়ি রাখতে চায় না।

পটিয়া ট্রাফিক জোনের ইনচার্জ মো. আমীর ফারুক বলেন, বিষয়টি নিয়ে পটিয়া বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত অবৈধ বাস স্টেশন থেকে বাস সরিয়ে নিয়ে পৌর বাস টার্মিনালে রাখবেন।

তিনি বলেন, শেষবারের মতো তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরও তারা নির্দেশনা না মানলে আমরা সম্মিলিতভাবে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে বাধ্য হবো।

পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, তিন মাস আগে বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে পটিয়া পৌরসভায় একটি সভা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাস পার্কিংয়ে টার্মিনাল ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা টার্মিনালে বাস রাখছেন না।

ইউএনও আরো বলেন, পটিয়ার ট্রাফিক সার্জেন্ট বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। টার্মিনালটি সচল না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।