কৃষি

আশার আলুতে হতাশা, কেজিতে ৬-৭ টাকা লোকসান গুনছে কৃষক

নিউজ ডেস্ক৪ অক্টোবর ২০২৬১০ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:


উত্তর জনপদের শস্যভাণ্ডার খ্যাত জয়পুরহাটে আলু শুধু একটি ফসল নয়, হাজারো কৃষকের বছরের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। এই আয়ের অর্থ আবার পরের মৌসুমে বিনিয়োগ করেন তারা। এবার মাঠে ভালো উৎপাদনের পর উপযুক্ত দাম পাওয়ার আশায় হিমাগারে আলু রাখেন অনেক কৃষক। কিন্তু বাজারে সঠিক দাম পাচ্ছেন না তারা। একদিকে হিমাগার ও পরিবহন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে প্রত্যাশিত দাম নেই; ফলে উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, দিনশেষে কৃষকের হাতে তা ফিরছে না। এতে কষ্টের ফসল বিক্রি করে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

জয়পুরহাট কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় মোট ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আলু উৎপাদিত হয়েছে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন। খাদ্য চাহিদা ও বীজের জোগান নিশ্চিত করতে এই বিশাল উৎপাদনের একটি অংশ হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জেলায় বর্তমানে মোট ২২টি হিমাগার চালু রয়েছে। এর মধ্যে কালাই উপজেলায় ১৪টি, ক্ষেতলালে চারটি, পাঁচবিবিতে দুটি এবং আক্কেলপুর উপজেলায় দুটি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে খাদ্য ও বীজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে কম দামে আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রেখে পরে ভালো দামে বিক্রি করবেন— কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আশা ছিল এমনই। কিন্তু বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে। ভালো দামের আশায় এসব আলু সংরক্ষণ করলেও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। এর মধ্যে হিমাগারের যে আলু বিক্রি হয়েছে, তাতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন। বাকি আলুও হিমাগার কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে খালাস করতে হবে। ফলে সামনে বাজারদর কেমন থাকে, তার ওপর নির্ভর করছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ।

পুনট হিমাগারে ৬শ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৮৫০ টাকা বস্তা আলুর দাম। হিমাগার ভাড়া, বস্তা কেনা, পরিবহন এই মিলেই ৪শ থেকে ৫শ টাকা খরচ পড়ে গেছে। আবার আলুর উৎপাদন খরচ আছে। ১২শ থেকে ১৩শ টাকা দামে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি করলে ন্যায্য দাম পাবো। এখন আমাদের প্রত্যেক বস্তায় ৪শ থেকে ৫শ টাকা লোকসান হয়ে যাচ্ছে। এখন ব্যবসায়ীরাও আলু নিচ্ছে না। আমরা কৃষকেরা বিপদে পড়ে গেছি। সরকারের কাছে আবেদন আলু যে বাইরের দেশে পাঠানো হয়। তাহলে আমরা ন্যায্য দাম পাব।

জয়পুরহাট সদরের কৃষক মিঠু হোসেন বলেন, আমি প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছিলাম। এর ভিতরে ৪০ বিঘা স্টিক, ২০ বিঘা গুটি। আলু উত্তোলনের পর বিক্রি করেছি, আর ৩৫০ বস্তা আলু স্টোরে রেখেছি। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে হিমাগার ভাড়া বাদে পাচ্ছি মাত্র ৫শ টাকা। কিন্তু প্রতি বস্তায় ১২শ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন কৃষকেরা কি করব? আলুর দাম এরকম কম হলে কীভাবে চলব নিজেই জানি না।

আলু ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, আলুর অবস্থা খারাপ। এর কারণ বাইরের দেশে আলু যায়নি। কৃষক-ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ। সেসময় ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকা কেজিতে আলু কেনা হয়েছে। এখনও প্রায় ওই রকম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে কি কৃষক-ব্যবসায়ী বাঁচবে? কি আর বলব? সরকারের কাছে আবেদন করছি, আলু বাইরের দেশে অতি তাড়াতাড়ি রপ্তানি করা হোক।

পুঁজি হারাচ্ছেন কৃষক-ব্যবসায়ীরা, শঙ্কিত হিমাগার কর্তৃপক্ষ

আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই কৃষককে বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে। কিন্তু বিক্রির সময় সেই খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম মিলছে না। ফলে উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে যে পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়েছিল, বাজারদরের পতনে তার বড় অংশই এখন হারানোর পথে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষক-ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, আলুর দাম কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন অনেক প্রান্তিক, ক্ষুদ্র কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকেই মৌসুমে আলু চাষ ও ব্যবসার জন্য ব্যাংক, এনজিও কিংবা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। আলু বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও বাজারদর তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ লোকসান কমাতে আগেভাগেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে একদিকে কৃষক-ব্যবসায়ীর হাতে নগদ অর্থ ফিরছে না, অন্যদিকে পরবর্তী মৌসুমে আলু চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজিও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ২ বিঘা ১০ শতক মাটিতে আলু লাগিয়েছিলাম। ১০ শতক মাটিতে গুটি আলু আর ২ বিঘা মাটিতে স্টিক। স্টোরে রাখা আলু ৬২ কেজি ওজন ধরে বস্তাপ্রতি বিক্রি করলাম ৮৬০ টাকা। স্টোর ভাড়া ৪২০ টাকা আবার আলু বের করতে শ্রমিকের মজুরি ২০ টাকা, মোট ৪৪০ টাকা খরচ। আমরা কৃষকরা ধ্বংসের পথে। আলুর বাজারে পুরোটাই ধস নেমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আলু চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলব।

সবুজ মিয়া নামে এক আলু ব্যবসায়ী বলেন, আমি হিমাগার থেকে আলু কিনে ঢাকা পাঠিয়ে দেই। প্রতি বস্তায় ১৫ টাকা করে কমিশন পাই। সেখানকার ব্যবসায়ীরা একটা দাম ধরে বিক্রি করেন। আমি ব্যবসায়ী হিসেবে হিমাগারেও আলু রেখেছিলাম। গত বছর আলু রেখেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এবার রেখেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার দুই হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। মোটামুটি সব আলু বিক্রি করে দিয়েছি। কারণ সামনের দিনে আরও দাম কমার সম্ভাবনা আছে। সময়ের তুলনায় হিমাগার থেকে আলু খুবই সীমিত বের হয়েছে। সরকার যদি বাইরের দেশে আলু পাঠানো উদ্যোগ নিলে আমাদের ভালো হতো।

কালাইয়ের আলু ব্যবসায়ী মেহেদুল চৌধুরী কয়েকটি হিমাগারে প্রায় ৮ হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন। এরমধ্যে প্রায় ৫ হাজার বস্তা ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন। এই আলু বিক্রি করে লাভ করতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি হিমাগার থেকে আলুর উপর ঋণ নিয়েছিলাম। বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা ঋণ নেওয়া ছিল। এরপর আলু কেনা এবং হিমাগারে রাখার ভাড়া। প্রতি বস্তায় ১২২০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা খরচ পড়েছে। সবমিলিয়ে কোনো লাভই হয়নি, তবিল (পুঁজি) শেষ। আর প্রায় ৩ হাজার বস্তা আলু আছে। আগামীতে বাজার বাড়বে না-কি কমবে বলা মুশকিল। তাই এগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করে দিব।

কালাইয়ের মেসার্স ইসরাত হিমাগারের হিসাবরক্ষক বদিউজ্জামান বলেন, বিগত বছরে যে পরিমাণ আলু বের হয়েছিল, এ বছর সেইভাবে হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে না। এরকম প্রায়ই হিমাগারেই হচ্ছে। আলুর দাম কমের কারণে এমনটা হচ্ছে। দাম ভালো থাকলে আলু বেশি বের হতো, এতে আলু রাখার চেম্বার দ্রুত ফাঁকা হতো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাতেও চাপ কমত।

তিনি আরও বলেন, এখন শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না। হিমাগার থেকে সব আলু বের হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে আছেন। আগামী মৌসুমে তারা আবার ব্যবসা করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। আমরাও ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। একই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের হিসাবরক্ষক এনামুল হকও।

প্রভাব পড়তে পারে আগামী মৌসুমের আবাদে

গত দুই মৌসুমের মধ্যে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আলু চাষ করে অন্তত উৎপাদন খরচ তুলতে পেরেছিলেন কৃষকেরা। তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে এসে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। উৎপাদন ও হিমাগার সংরক্ষণ খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় এবার কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়েছে।

এর মধ্যে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের আগমুহূর্তে বৃষ্টিও কৃষকদের বিপাকে ফেলে। বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক দ্রুত আলু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। আবার কোথাও কোথাও জমিতে পানি জমে থাকায় সময়মতো আলু উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে সেই জমিতেই ধান রোপণ করেছেন কৃষকেরা। সব মিলিয়ে আগামী মৌসুমে আলু চাষের পরিমাণ কমে আসতে পারে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজু আলম সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এই কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় আগামী মৌসুমে কৃষকরা আলু চাষে কিছুটা ঝুঁকি কম নিতে পারেন এবং আলুর পাশাপাশি অন্যান্য রবি ফসল আবাদে বেশি মনোযোগী হতে পারেন বলে আমার ধারণা।

কৃষক সোহেল হোসেন বলেন, ২০ বস্তা আলু ৮৭০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এর মধ্যে হিমাগার ভাড়া দিতে হয়েছে বস্তাপ্রতি ৩৮০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে পেয়েছি প্রায় ৯ হাজার ৮০০ টাকা। এখান থেকে অটো ভাড়া আছে। এই আলুতেই আমার প্রায় ৬ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

লোকসানের কারণে আগামী মৌসুমে আর বাণিজ্যিকভাবে আলু চাষ করতে চান না সোহেল। তিনি বলেন, আগামীতে শুধু পরিবারের খাওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আলু লাগাব। ব্যবসার জন্য আর আলু চাষ করব না। শুধু এবার নয়, গত বছরও লস (লোকসান) হয়েছে। গেল মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা লস হয়েছে। কিছুটা লাভ হবে, অন্তত লসটা উঠে আসবে, সেই আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলাম। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লস আর লস। তাই এবার থেকে আর আলু চাষ করতে চাই না।

আলুর বাজার বাঁচাতে বাড়াতে হবে বহুমুখী ব্যবহার

মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদনের পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনকে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই কৃষকের লাভ নিশ্চিত হয় না। কৃষক পর্যায়ে আলু উৎপাদনের পর তা সরাসরি কাঁচা পণ্য হিসেবে বাজারজাত না করে প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাড়তি উৎপাদনের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

এ ছাড়া উৎপাদন মৌসুমে বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আলু চলে আসার কারণে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সারা বছর আলুর বাজার ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষককে মৌসুমের শুরুতেই কম দামে আলু বিক্রি করে দেওয়ার চাপ থেকে কিছুটা মুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানিযোগ্য আলুর উৎপাদনও বাড়ানো যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজু আলম সরকার বলেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন হলেই বাজারে আলুর দাম পতন ঘটে। অতীতে দেখা গেছে, আলুর উৎপাদন কম হওয়ার কারণে বাজার দর অনেক বেশি ছিল। এখন উৎপাদন বেশি কিন্তু দাম কম। এই পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে হবে। আবার মানসম্মত আলু উৎপাদনের জন্য অবশ্যই ভালো মানের বীজ ব্যবহার করতে হবে। মানসম্মত বীজ ব্যবহার করলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও আলু রপ্তানি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হওয়ায় এখানে প্রচুর আলু উৎপাদিত হয়। তাই কৃষক ভাইদের অনুরোধ করব, তারা যেন মানসম্মত বীজ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি জমির ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষিবিদ মনজু আলম সরকার বলেন, কৃষকদের মানসম্মত বীজ ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নির্দেশনা মেনে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন। অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে আলুর সংরক্ষণ মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় আলু পচে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে বরাদ্দকৃত সারেও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। সেজন্য সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।

 

সূত্র: ঢাকা পোস্ট