তথ্যপ্রযুক্তি

স্টারলিংকের সঙ্গে পাল্লা দিতে ১,৬০০ স্যাটেলাইট পাঠাবে জিও

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিলায়েন্স জিও। এ লক্ষ্যে প্রায় ১,৬০০টি স্যাটেলাইট লো আর্থ অরবিটে (এলইও) পাঠানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসব স্যাটেলাইট পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ইলন মাস্কের স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার লক্ষ্য জিওর।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য প্রিন্টের তথ্য অনুযায়ী, জিওর স্যাটেলাইটগুলো ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে থাকবে। অন্যদিকে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার এবং অ্যামাজনের লিও নেটওয়ার্কের স্যাটেলাইট প্রায় ৬৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে।

ভারতের মহাকাশ খাতের নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী সংস্থা ইন-স্পেসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিও তুলনামূলক কম ব্যবহৃত একটি কক্ষপথে তাদের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

 

স্টারলিংকের চেয়ে কম, ওয়ানওয়েবের চেয়ে বেশি

বর্তমানে লো আর্থ অরবিটে সবচেয়ে বড় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলোর একটি স্টারলিংক। প্রতিষ্ঠানটির কক্ষপথে ১০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। অ্যামাজনের লিও নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পরিকল্পনায় রয়েছে ৩ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট।

জিওর পরিকল্পিত ১,৬০০ স্যাটেলাইটের সংখ্যা এর তুলনায় কম। তবে ভারতী এয়ারটেল-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের প্রায় ৬৫০টি স্যাটেলাইট জিওর চেয়ে অনেক উঁচু—প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার উচ্চতায়—অবস্থান করছে।

উচ্চ কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট তুলনামূলক বড় এলাকা কভার করতে পারে। ফলে কমসংখ্যক স্যাটেলাইট দিয়েও বিস্তৃত এলাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে নিচু কক্ষপথের স্যাটেলাইট থেকে সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছাতে তুলনামূলক কম সময় লাগে।

২০২৭ সালে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

জিওর প্রকল্পটি প্রযুক্তিগত অনুমোদন পেলেও পূর্ণ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো অপেক্ষমাণ। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের দিকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রয়েছে জিওর।

প্রাথমিকভাবে কয়েকটি স্যাটেলাইট পাঠিয়ে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও অন্যান্য প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের শুরু থেকে বড় পরিসরে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জিও প্রথম পর্যায়ে ভারতের বাজারেই বেশি গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছানো কঠিন, সেসব এলাকায় সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

 

২০-২২টি গ্রাউন্ড স্টেশন

জিও স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের পাশাপাশি সেলুলার নেটওয়ার্কের ব্যাকহল এবং ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইসের মতো সেবাও দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ জন্য ভারতে ২০ থেকে ২২টি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছেও কক্ষপথ ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছে। ওই আবেদনে প্রস্তাবিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের দিকে ভারতে সেবা চালু করতে পারে জিও। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। পুরো ১,৬০০ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রতি স্যাটেলাইটে ১০০-১৫০ জিবিপিএস সক্ষমতা

জিওর প্রতিটি স্যাটেলাইটে ১০০ থেকে ১৫০ জিবিপিএস পর্যন্ত ডেটা পরিবহনের সক্ষমতা থাকার কথা। পুরো নেটওয়ার্ক চালু হলে ভারতের ওপর একই সময়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩২টি স্যাটেলাইট অবস্থান করতে পারে। এতে দেশটিতে মোট ৪ থেকে ৪.৮ টেরাবিট পার সেকেন্ড (টিবিপিএস) বা প্রায় ৫ টিবিপিএস সক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে।

ভারতের জন্য প্রস্তাবিত অন্যান্য স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের তুলনায় এই সক্ষমতা বেশি হতে পারে। দেশটিতে স্টারলিংকের জন্য ৬০০ জিবিপিএস এবং অ্যামাজন লিওর জন্য ৩ টিবিপিএস সক্ষমতার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে ভারতের ডিজিটাল কমিউনিকেশনস কমিশন (ডিসিসি) স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা নিয়ে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ট্রাই) সুপারিশ অনুমোদন করেছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া গেলে ভারতে স্টারলিংক ও জিওর স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর পথ আরও সহজ হতে পারে।

ইলন মাস্কও ভারতে স্টারলিংক চালুর বিষয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক্সে তিনি বলেন, ভারতের বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেসব মানুষ এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা পান না, তাদের জন্য স্টারলিংক উপকারী হতে পারে।