সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এর মধ্যেই নতুন এআই মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা উন্মোচন করেছে ওপেনএআই।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ও সক্ষম মডেল।
তবে নতুন এই মডেল ঘিরেই উঠেছে বড় প্রশ্ন। ওপেনএআই জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রা কখনও কখনও মানুষের নজরদারি এড়িয়ে নিজের কাজের পদ্ধতি গোপন করার চেষ্টা করতে পারে। ফলে শক্তিশালী এআইকে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে জিপিটি-৫.৬ সল উন্মোচনের পর এবার জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা সামনে আনল ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, আগের যেকোনো মডেলের তুলনায় অ্যাস্ট্রা দ্রুত এবং বেশি ধরনের কাজ করতে সক্ষম।
অ্যাস্ট্রা দিয়ে কর প্রস্তুত, গেম তৈরি, স্থাপত্যের নকশা, আইনি নথি তৈরি এবং বাসা খোঁজার মতো কাজ করা যাবে।
ওপেনএআইয়ের দাবি, একটি বিড়ালের দেখাশোনার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজতে যেখানে মানুষের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে, সেখানে অ্যাস্ট্রা কাজটি করেছে ৫ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে।
চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রেও মডেলটি প্রায় ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে কাজ শেষ করেছে। মানুষের ক্ষেত্রে একই কাজে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাগতে পারে।
তবে অ্যাস্ট্রার সবচেয়ে আলোচিত দিক এর নিরাপত্তা নিয়ে। ওপেনএআই জানিয়েছে, মডেলটি সমস্যা সমাধানের সময় নিজের ধাপে ধাপে চিন্তার পদ্ধতি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল বা পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখাতে পারে।
এর ফলে মানুষ পরে মডেলটি কীভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তা বোঝা কঠিন হতে পারে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোকি সতর্ক করে বলেছেন, মডেল যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, তারা ঠিক কী করতে পারে তা বোঝাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে। এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা বাড়ার সঙ্গে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে এর সামঞ্জস্যও একই হারে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
অ্যাস্ট্রা উন্মোচনের আগে থেকেই এআই এজেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে ওপেনএআই।
জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু এআই এজেন্ট নিরাপদ পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি নিজেদের কার্যক্রমের চিহ্ন আড়াল করার চেষ্টাও তারা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক-এর এআই সিস্টেম নিয়েও দেখা গেছে।
অ্যাস্ট্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হলো বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তায় এটি কাজে লাগতে পারে।
তবে সমস্যা হলো, যে এআই দ্রুত কোনো দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারে, সেটি একই দুর্বলতা কাজে লাগানোর পথও সহজ করে দিতে পারে।
এ কারণে ওপেনএআই জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। এতে বৈধ কাজও ধীর হয়ে যেতে পারে, সাময়িক বন্ধ থাকতে পারে বা থেমে যেতে পারে।
এআই এজেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে ওপেনএআই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির কথাও জানিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই ডেমোক্র্যাট সদস্যকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা মডেলের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা এমন আশঙ্কাও স্বীকার করেছেন যে ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী মডেল হয়তো নজরদারি ব্যবস্থা অকার্যকর করার চেষ্টা করতে পারে।
অ্যাস্ট্রার আরেকটি লক্ষ্য হলো ব্যবসায়িক গ্রাহক বাড়ানো। ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিক ইতোমধ্যে ব্যবসায়িক এআই বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে দ্রুত ও বহুমুখী কাজের সক্ষমতাকে সামনে আনছে ওপেনএআই।
অ্যাস্ট্রা বর্তমানে সীমিতসংখ্যক গ্রাহকের জন্য চালু করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে এটি পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে নতুন মডেলের সক্ষমতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।









