প্রদীপ সাহা,সাপাহার:
নওগাঁর সাপাহার সরকারী ডিগ্রী কলেজে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি ফেরত না দেওয়ার ফলে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে ৪ জন ছাত্র নেতাকে জিঙ্গাসাবাদ করার নাম করে থানায় আটকে রাখে পুলিশ।

এর প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘন্টাকাল ব্যাপী অবরোধের ডাক দেয় এবং জিরো পয়েন্ট থেকে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য যে, স্নাতক তৃতীয় বর্ষের বিভিন্ন শাখায় প্রায় ৬ শতাধীক শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধেক শিক্ষার্থী আগে ফরম পূরণ করে। ওই শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে এর আগে কলেজ চত্ত্বরে মানববন্ধন করে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদারকে অবগত করলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সরকারী ডাকবাংলোতে ডাকেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট এই ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা শিক্ষার্থী প্রতি ৩৬০ টাকার হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে যেসব শিক্ষার্থী নতুন ভাবে ফরম পূরণ করবে তাদের কাছ থেকে ৩৬০ টাকা কম নেওয়া হবে বলেও সংসদ সদস্যের কাছে স্বীকার করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে প্রায় তিনশতাধীক শিক্ষার্থী তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইতে আসলে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের হয়রানী করতেই থাকে সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নূরুল আলম ও উপাধ্যক্ষ সুবোধ চন্দ্র রায়।
ব্যাপারটি নিয়ে জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকগণ ক্ষিপ্ত হয়ে যান এরই জের ধরে সোমবার বেলা ১১টায় কলেজের ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অধ্যক্ষ’র সাথে কথা বলার জন্য তাঁর অফিসে যান। সেখানে তিনি উপস্থিত না থাকায় উপাধ্যক্ষ সুবোধ চন্দ্র রায় এর কাছে অতিরিক্ত অর্থ ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাথে উপাধ্যক্ষ খারাপ আচরণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক থানায় খবর দেয়।
সঙ্গে সঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রেজাউল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ কলেজ চত্ত্বরে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নূরে আলম পিংকি, কলেজ শাখা সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান সুলতান, হোস্টেল শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম কে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে এসে আটক করে রাখে।

পরে বিষয়টি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে জানাজানি হলে তাৎক্ষনিক উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে আটককৃত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের থানা থেকে মুক্তি, সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ’র অপসারণ এবং অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে উত্তোলন করা অর্থ ফেরতে এবং রশিদ চাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার দাবী জানিয়ে বিকেলে ৫ টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। মিছিল শেষে জিরো পয়েন্টে ওই ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রায় ঘন্টা কালব্যাপী যানবাহন বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাইম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদত তারিফ শাহ চৌধুরী’র সাথে কথা হলে তারা জানান, আজ রাতের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটককৃত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি না দিলে আগামীকাল সকাল থেকে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল ইসলামে সাথে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কথা হলে, তিনি জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বসবেন এবং তারাই আটককৃত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
স/অ









