সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মায়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা, অধিকার ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিও, বিভিন্ন দেশ ও মানবিক সহায়তাকারীদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত রিজিওনাল হিউম্যানিটারিয়ান পার্টনারশিপ উইক-এর আন্তর্জাতিক সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়। কোস্ট ফাউন্ডেশন ও কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম আয়োজিত সেমিনারে এশিয়া প্যাসিফিকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক প্রতিনিধি যুক্ত হন।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তৃতা করেন ডেবি স্টোথার্ড, হাফসার তামিজুদ্দিন, মার্কো মিলজেভিক, আমির হোসেন, খায়ের উল্লাহ, তাকাশি কোমিনো, সঞ্জীব ভাঞ্জা, হেলাল উদ্দিন, ইয়াসমিন উল্লাহ প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উত্থাপনকালে মো. ইকবাল উদ্দিন বলে, ১৯৮২ সালে মিয়ানমার বেআইনিভাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে এবং এ নাগরিকত্ব অবিলম্বে পুনর্বহাল করা জরুরি। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা পুরোপুরি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয় এবং এর জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সব পক্ষের একটি সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, মূল চাহিদা পূরণ ও তাদের মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
মিয়ানমার জান্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পূর্ণ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জরুরি রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হলে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়াই প্রথম শর্ত। সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ফের তুলে এনেছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক বর্ণনা তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে।
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক ইস্যু, তাই সমাধানে রাজনৈতিক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জরুরি। রোহিঙ্গাদের শিক্ষার সুযোগ ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।









