নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অবৈধ কলেজ পরিদর্শক ও ডিন অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে এবার সরকারি কোষাগার থেকে ২ লক্ষ টাকার বিল উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ১৪ই মার্চ (শনিবার) দৈনিক কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশিত হলে তড়িঘড়ি করে এই বিল উত্তোলনের জন্য চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি ছাড়াও এই তালিকায় আছেন, তার পিও নুর রায়হান ৮৫ হাজার, ভিসির পি এস নাজমুল হোসেন সাড়ে ৩৯ হাজার, পিএস’র ঘনিষ্ঠ সহচর সেকশন অফিসার তানভীর হোসেন ১৯ হাজার ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার সাড়ে ৯ হাজার এবং ভিসির ডানহাত হিসেবে পরিচিত অস্থায়ী ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম সাড়ে ৩১ টাকা। অথচ এই তালিকার উপরে থাকা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ অন্যান্য প্রফেসরদের বিল রয়েছে নামমাত্র ১০-২০ হাজার টাকা।
রামেবি সূত্রে জানা গেছে, কলেজ পরিদর্শক ডা. আব্দুস সালাম ডিনের সুবাদে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ২৯টি পরিদর্শন কমিটির আহবায়ক হিসেবে ২ লক্ষ টাকা বিল দাবি করেছেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী তার ডিন এবং কলেজ পরিদর্শক উভয় নিয়োগই অবৈধ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যেখানে তার ডিন ও কলেজ পরিদর্শকের নিয়োগই অবৈধ সেখানে তিনি ওইসব পদাধিকার বলে পরিদর্শনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করেন কিভাবে?
এছাড়াও, ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কৌশলে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অনৈতিক সুবিধার কৌশল হিসেবে ডা. আব্দুস সালাম পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠান নবায়ন না করে পত্র দেন। পরে সুবিধা নিয়ে নবায়ন দেন। যেমন- বগুড়ার ডালিয়া নার্সিং কলেজ পরিদর্শনের পর গত বছরের ৫ জুলাই অবকাঠামো দুর্বলতা, জনবল ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক স্বল্পতাসহ সার্বিক দুর্বলতার কারণে অধিভুক্তি নবায়ন দেওয়া গেল না মর্মে পত্র দেন। কিন্তু ওই বছরের ২৮ আগস্ট, দুই মাসেরও কম সময়ে একই প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়ে দেন। অন্যদিকে, বগুড়ার আইডিয়াল নার্সিং কলেজ অধিভুক্তি ও আসন বৃদ্ধির আবেদন বিলম্বে দেওয়ায় সর্তকপত্র দেন। তবে একই অপরাধে সেই ডালিয়া নার্সিং কলেজকে কোন সতর্কপত্র ছাড়াই পরবর্তী সেশনে আবেদন বিবেচনার আশ্বাসে পত্রদেন। ১৪ই মার্চ (শনিবার) দৈনিক কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মহলসহ সচেতন রাজশাহীবাসীর নজরে আসে বিষয়টি। তারপরই তড়িঘড়ি করে এই বিল উত্তোলনর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তিনি ও তার সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রামেবির ভিসি ও তার অবৈধ নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির খরব প্রকাশিত হলেও কোন তদন্ত ছাড়াই সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট।
এদিকে, ডা. আব্দুস সালামের পরেই সর্বোচ্চ বিল দাখিরকারী হলেন পিও নুর রায়হানের বিরুদ্ধে মাদক সেবনরত অবস্থায় ধরা পড়ে জেল খাটার অভিযোগসহ দু’টি প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ খাওয়ার অডিও প্রকাশ হয়েছিল কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ওই অডিও’র কথোপকথনে তিনি তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক ও বর্তমান ভিসি ডা. জাওয়াদুল হকের সাথে তার বিশেষ সখ্যতার দাবি করেন। এ নিয়ে তৎকালী কর্তৃপক্ষ তাকে লঘু দন্ড প্রদানসহ অন্য দপ্তরে বদলি করেন। কিন্তু ডা. জাওয়াদুল হক ভিসি হওয়ার পরপরই তাকে আবারও কলেজ পরিদর্শক দপ্তরে বদলি করেন। নুর রায়হানের বিরুদ্ধে পরিদর্শন কমিটিতে নাম না থাকার পরও কমিটির সাথে পরিদর্শনে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।#









