নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে নতুন করে তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধি না রেখে নতুন কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশ মতে তিন সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। বুধবার রামেক হাসপাতাল থেকে খসড়া কমিটি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ৫ বছর আগে নির্মাণ করা হাসপাতালের এই নতুন ভবনটি নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এদিকে বুধবার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, এই নতুন তদন্ত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের কোনো সদস্য রাখা হবে না। তাদের তত্বাবধায়নেই যেহেতু ভবনটি নির্মিত হয়েছে, সেহেতু তাদের প্রতিনিধি বাদ দিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর একজন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের একজন প্রকৌশলীকে নতুন কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হবে। তবে কমিটির প্রধান হিসাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্তপরিসঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোসাদ্দেক হোসেনের নামই থাকছে।
এর আগের কমিটিতে রাজশাহী গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ মাহমুদের নাম ছিল।
অন্যদিকে বুধবার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী, ডিজাইন সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব ও অডিট অ্যান্ড মনিটরিং সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক হাসাপাতালের ওই ভবন পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধান প্রকৌশলী সাংবাদিকদের বলেন, এটা ভবনের মূল কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনো অংশ না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই ক্ষেত্রে কেউ কেউ দামি কাঠ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এখানে যেহেতু সরকারি ভবন, বেশি ব্যবহার হয়, স্টিলের বা অন্যকিছু দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় তাকে আসতে বলেছেন। তিনি এসেছেন, এখানে কারও যদি কোনো ‘ফল্ট’ থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ফল্ট দেখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখছি না, তবে আমাদের নিচের লেভেলের লোকদের এটা খেয়াল করার দরকার ছিল।’
এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুইয়া গতকাল এই ভবন পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদকের চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে নির্দেশিত হয়ে তারা এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে নেমেছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি এই ভবন পরিদর্শন করেছেন। তার উপপরিচালক ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনি আগামী রোববার ফিরবেন। তিনি এলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, উপপরিচালকের সঙ্গে তিনি এই কাজে থাকবেন।
তবে ভবন নির্মাণকারী সংস্থা মার্ক বিল্ডার্স লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল হক বলেন, তারা ২০১২ সালের ৩০ জুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। লিফট বসানোর কাজ তারা করেননি। করেছে প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ। প্রাণ-আর.এফ.এল কাজ শেষ করেছে ২০১৬ সালের ৩০ জুন। এ ব্যাপারে প্রাণ-আর.এফ.এল গ্র“পের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স/আর









