নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরীর মতিহার থানা আমলি আদালতে মামলাটি করেন এসএম আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। তিনি রাবি ছাত্র মাহমুদুল হাসানের বাবা।
মামলাটি রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে দায়ের করেন আহত শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান (মাহিন)-এর বাবা এম. এস. আসাদ উজ জামান। মামলার নম্বর সি/২০২৬ (মতিহার)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহিনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম, বাম চোখে আঘাত এবং বুকে আঘাত লেগে বুকের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে মাহিনকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার (২৪), সালমান সাব্বির (২৬), নাজমুস সাকিব (২৪), মেহেদী সাবির (২৭), ফাহিম রেজা (২৬), আরিফুল ইসলাম (২৪), আশরাফ উল্লা মাহমুদ (২২), সিয়াম আবু সালেহ (২৪) ও নুরুল ইসলাম শহীদ (২৬)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।
তবে এ মামলার অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য বা এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মামলার আইনজীবী হযরত আলী বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।









