রাজশাহী

রাজশাহীতে মব করে দোকান ও বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক২ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার চৌদ্দপায় বিহাস মোড় এলাকায় মব সৃষ্টি করে দোকানঘর ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মচারী আব্দুল খলিলের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাটাখালি পৌরসভা জামায়াতের রোকন উজির আলীর ভাই নজির আলী, রজব আলী ও মিলন আলীসহ তাদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়ি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় তারা বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে প্রধান ফটকের মাঝখানে নিজেদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।

খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, দখলচেষ্টায় বাধা দিলে তার ছোট ভাই কাউসার আলীকে মারধর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের উদ্ধার করে। প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ঘটনার পরদিন লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অব্যাহত হুমকি ও মানসিক চাপে তার বাবা আব্দুল খলিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখলদারদের সাইনবোর্ড অপসারণ করে বাড়ি ও দোকানঘর দখলমুক্ত করা, ভুয়া দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে দখলচেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খাদিজা ইয়াসমিন খুশির মা রেবেনা খাতুন ও ভাই কাউসার আলী। পরিবারের অন্য সদস্যরা অসুস্থ আব্দুল খলিলের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উজির আলী বলেন, তারা কারও জমি দখল করতে যাননি, বরং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে নিজেদের সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। মব সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি নিজে সেখানে ছিলেন না; তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনরা গিয়েছিলেন এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।

এ বিষয়ে উজির আলী আরও বলেন, আব্দুল খলিল ১৯৮৪ সালে সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয় করলেও বর্তমানে ছয় শতক জমি ভোগদখলে রেখেছেন, যা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, তাদের মোট জমির পরিমাণ ছয় শতক। তবে মহাসড়ক সংলগ্ন অংশের কারণে সাড়ে তিন শতক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও বাকি জমি দলিলে বেদাবি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সেই জায়গা ছেড়েই তারা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং পরবর্তীতে সামনে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেখানে হামলা বা মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তার জানা নেই। তবে জায়গা-জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উজির আলীর লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন আব্দুল খলিল পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।