রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে প্রণোদনার আশায় ভুয়া করোনা পজিটিভ রিপোর্ট জমা, বাড়ছে অযথা পরীক্ষা

নিউজ ডেস্ক১২ আগস্ট ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রণোদনার আশায় রাজশাহীতে অস্বাভাবিক হারে বড়াছে সরকারি কর্মকর্তাদের করোনা পরীক্ষার হার। ফলে সাধারণ মানুষকে করোনা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিনও। এদিকে রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা করাতে বিলম্ব হওয়ায় পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানবববন্ধনও করেছেন স্থানীয়রা। প্রণোদনার আশায় এরই মধ্যে কেউ কেউ ভুয়া রিপোর্টও দাখিল করেছেন। এ নিয়ে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) ল্যাব সূত্র মতে, গত সোমবার রামেক ল্যাবে ১৮৫ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারী ও বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে রয়েছেন অন্তত ১০০ জন। আর বাকি সর্বোচ্চ ৮৫ জন রয়েছেন সাধারণ মানুষ। নমুনা পরীক্ষা হওয়া এই ১৮৫ জনের মধ্যে ৩৪ জনের করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়। যাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনই হলেন সুস্থ মানুষ। শরীরে তেমন কোনো লক্ষ্যণও নাই।

আগের দিন রবিবার একই ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭৯ জনের। যার মধ্যে ৪০ জনের শরীরের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্যগুলো নেগেটিভ পাওয়া গেছে। এই ১৭৯ জনের ক্ষেত্রেও অধিকাংশই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। যাদের মধ্যে অন্তত ৯০ ভাগই হলেন সুস্থ এবং শরীরে তেমন কোনো লক্ষ্যন নাই। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার আশায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী গণহারে করোনা পরীক্ষা করেছেন। কেউ কেউ একাধিকবারও করোনা পরীক্ষা করেছেন বলেও নিশ্চিত করেছে করোনা ল্যাবের একাধিক সূত্র।

সূত্র মতে, রাজশাহীর দুটি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে মেশিনের ত্রুটির কারণে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রামেক হাসপাতাল ল্যাবে সাময়িকভাবে বন্ধ আছে করোনা পরীক্ষা। ফলে এখন রামেক ল্যাবেই শুধু হচ্ছে দুই শিফটে করোনার নমুনা পরীক্ষা। এই দুই শিফটে গড়ে অন্তত ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। যাদের মধ্যে অন্তত অর্ধেকই হচ্ছেন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রণোদনার আশায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী গণহারে নমুনা পরীক্ষার করার কারণে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে।

রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার আশিফুর রহমান সজল বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার স্বর্দি ও প্রচণ্ড গলাব্যাথা শুরু হলে আমি নমুনা পরীক্ষা করার চেষ্টা করি। কিন্তু ঘুরে ঘুে শেষে ৬দিন পরে পরীক্ষা করতে পারি। আর রিপোর্ট পাই আরও তিনদিন পরে। তবে সেটি নেগেটিভই আশে।’
আশিফুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি সরকারি ও ক্ষমতাওয়ালা যারা, তারা সহজেই পরীক্ষা করতে পারছেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে ঘুরতে হচ্ছে।’
এদিকে ঢাকার একটি আন্তজার্তিক কম্পানীতে চাকরিরত একজন কর্মকর্তা রামেক ল্যাবের ভুয়া করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দাখিল করেন প্রণোদনা পাওয়ার আশায়। কিন্তু সেটি তদন্তে পাঠায় ওই কম্পানীটি। তাতেই ধরা পড়ে ওই ভুয়া প্রতিবেদনের বিষয়টি। পরে বিষয়টি নিয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ল্যাবের দায়িত্বরত সহযোগী চিকিৎসক ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে জানা গেছে।

রামেক হাসপাতাল ল্যাবের আরেকটি সূত্র জানায়, মেশিনে ত্রুটি ধরা পড়ার আগে প্রতিদিন গড়ে এখানেও অন্তত ১৮০ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই ছিলেন অন্তত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। যদিও নমুনা আসছে এখানে রাসিকের মাধ্যমে। আবার রামেক ল্যাবে করোনার নমুনা দেওয়া হচ্ছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মাধ্যমে।

নাম প্রকাশে রাজশাহীর একটি ল্যাবের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাঝে ১০০ জনের করোনা নমুনা পরীক্ষা হলে অন্তত ৬০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছিল। কিন্তু প্রণোদনার আশায় অতিরিক্ত হারে নমুনা পরীক্ষা শুরু করার পর থেকেই এখন একশজনে ৩০ জনের শরীরেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো সুস্থ মানুষ এখন করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। যার কারণে নমুনায় এখন পজিটিভ কম আসছে।’

স/আর

ট্যাগ: