রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়েছে মাংসের দাম

নিউজ ডেস্ক২৬ জানুয়ারি ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া কাঁচা বাজারে সপ্তাহ দুয়েক আগেই মাইকযোগের ডেকে ডেকে বিক্রি করা হতো মাংস। মাইকে বলা হত, দেশি গরুর মাংস ৬৩০ টাকা, আসেন বেশি গরুর মাংস প্রতিকেজি ৬৩০ টাকা। পাশাপাশি দুটি মাংসের দোকানে এভাবে ডেকে ডেকে বিক্রি করা হতো মাংস। গতকাল শুক্রবার বাজার ঘুরে কোথাও মাইকে ডেকে মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়নি।
আবার বৃহস্পিতার হলে গত কয়েক মাস ধরে বিকেলের পর থেকেই অটোরিকশাযোগে ঘুরে ঘুরে মাইকে ঘোষণা দেয়া হতো, ওমুক মোড়ে বড় গরু জবাই হবে, মাংস বিক্রি ৬৩০ টাকা বা ৬২০ টাকা কেজি দরে। সেই মাইকও গত প্রায় সাতদিন ধরে বন্ধ হয়ে গেছে । এখন মাইক ছাড়ায় গরুর মাংস বিক্রি করছেন রাজশাহীর বিক্রেতারা। তবে এখন ৬২০ বা ৬৩০ টাকা নয়, প্রতিকেজি বিক্রি করা হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। এই দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০০-১৩০ টাকা দাম বেড়েছে মাংসের।

বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুম শেষের দিকে। তাই গরুর দামও বাড়তে শুরু করেছে। আগেে য গরু কিনতে হতো ৮০ হাজার টাকায়, এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ৮৫-৯০ হাজার টাকায়। যার কারণে মাংসের দাম কেজিতে ১২০-১৩০ টাকা করে বেড়েছে।

এ বাজারে মাংস কিনতে আসা আসগর আলী নামের এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘হঠাৎ করে প্রতিকেজি মাংসের দাম ১২০-১৩০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো দাম বৃদ্ধি করে। না হলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এতো দাম বাড়তে পারে না।’

আরেক ক্রেতা মনজুর রহমান বলেন, ‘মাঝে দাম কিছুটা কমায় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাসে দুই একদিন মাংস খেতে পারতাম। কিন্তু এখন আবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এবার ৮০০ টাকাও ছাড়তে পারে। মাস চারেক আগে ৭৫০ থেকে ৬৩০ নেমেছিল।’

আরেক ক্রেতা নাজিরুল ইসলাম বলেন, ’আমাদের দেশের বাজারে কখন দাম বাড়ে কখন কমে তা ক্রেতাদের জানার অধিকার নাই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের বাজারে ব্যাগ হাতে এসে টাকা থাকলে কিনতে পারি, না থাকলে খালিহাতে বাড়ি যেতে হয। বিক্রেতারা যা দাম চান, সেটিই দিতে হয়। দাম কেন বেড়েছে সেটির কৈফিয়তও কেউ দিতে চাই না।’

তেরোখাদিয়া বাজারের মাংস বিক্রেতা মতিউর রহমান জানান, গরুর দাম বাড়লে মাংসের দামও বাড়বে। গরুর দাম কমলে মাংসের দামও কমবে। শীতের সময় অনেক খামারি গরুর বেশি বিক্রি করেন। তখন দাম কমে। এখন শীত শেষের দিকে আসছে। সামনে আসছে দুই ঈদ। খামারিরা আবার পুরোদমে গরু পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। ফলে বাজারে এখন চাহিদার চেয়ে গরু কম আসছে। তাই দামও বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে।’
স.আর