রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে ছেলের মারপিটে পাঁজরের হাড় ভেঙে আইসিইউতে বৃদ্ধা

নিউজ ডেস্ক১৮ মে ২০২৩২ মিনিট পড়া


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে ছেলের প্রচণ্ড মারধরে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। গুরুত্বর আঘাত রয়েছে মাথায়। মুমূর্ষ অবস্থায় এই নারী এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরীক অবস্থা সংকটাপন্ন।

এই নারী রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মারা গেছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন ভারতে থাকেন। ৫৫ বছর বয়সী আরেক ছেলের সঙ্গে থাকেন এই নারী। গত ৯ মে এই মাকে নির্যাতনের পর এই ছেলেকে স্বজনেরা পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, এই নারীর মাথায় ও শরীরের অন্যান্য স্থানে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়েছে। বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। ফুসফুস অচেতন হবার পর প্রতিবেশীরা তাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনেন। এরপর তাকে সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এতই রক্তপাত হয় যে, প্রতিবেশীরা ভর্তির পরই দুই ব্যাগ রক্ত দেন। অবস্থার মারাত্বক অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে দেওয়া হয়।

আইসিইউ ইনচার্জ বলেন, ‘টেলিভিশন, সংবাদপত্রে দেখি এ রকম নির্মম ঘটনা। এবার নিজে এই হতভাগ্য মাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছি। এই মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল দায়-দায়িত্ব রামেক হাসপাতালের আইসিইউয়ের যাকাত তহবিল এবং প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। আইসিইউতে তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে তাঁর শারীরীক অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।’

ওইই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রতিবেশী সামশুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, ওই নারীর এক ছেলের চায়ের দোকান ছিল। এখন দোকান নাই। পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছেলেটি প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝামেলা করত। গত ৯ মে মারতে মারতে মাকে অচেতন করে ফেলে ছেলেটি। পরে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন স্বজনেরা বলছেন, এই ছেলের মাথায় সমস্যা আছে। তাই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা জানি না তো। কেউ খবর দেয়নি। খবর পেলে অন্তত আমরা সরেজমিনে গিয়ে ঘটনা দেখে আসতাম। ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

স/আর