রাজশাহীর খবর

রাত জেগে লাইনে দাঁড়ানো ইন্ডিয়ান ভিসা প্রত্যাশীদের পেটালো দালাল শিমুল

নিউজ ডেস্ক১৪ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে ভিসা সেন্টারের ভবন মালিকের ছেলের হাতে মারপিটে শিকার হয়েছেন বৃদ্ধসহ অন্তত ৫ জন। রাত জেগে লাইনে দাঁড়ানো ওই ব্যক্তিরা ভবন মালিক আনছার আলীর ছেলে শিমুলকে টাকা না দেওয়ায় তিনি সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো অন্তত ৫ জনকে বেধড়ক পিটিয়ে লাইন থেকে সরিয়ে দেন।

 

  • এ ঘটনায় নগরীর বর্ণালী মোড়ে অবস্থিত স্ট্যাট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে শিমুলকেও উত্তম মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটি নিউজকে জানান, মঙ্গলবার সকালে ভিসার টাকা জমা দেওয়ার জন্য স্ট্যাট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া কার্যালয়ে প্রবেশ করতে সোমবার বিকেল থেকেই অন্তত শতাধিক লোক লাইন ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

15060188_825692327570799_286187115_o-copy

রাজশাহীসহ আশে-পাশের জেলার দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ যখন রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই ভবনের মালিক আনছার আলীর ছেলে ভিসার দালাল শিমুল লাঠি নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনকে বেধড়ক পেটাতে থাকে।

 

শিমুলের মারপিটে দু’জন বৃদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। মারপিটের সময় আতঙ্কে লোকজন দিকবিদিক ছুটোচুটি করতে থাকেন। এ ঘটনার পরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে শিমুলকে ধরে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনকে ভবনের সামনে থেকে দূরে সরিয়ে দেন।

 

লাইনে দাঁড়ানো হযরত আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করে জানান, শিমুল ২-৫ হাজার টাকা দিলে সে নিজেই ব্যাংকে প্রবেশের সিরিয়াল আগে নিয়ে দেয়। তাকে টাকা না দেওয়ায় লাইনের আগের সিরিয়াল ভাঙতে শিমুল প্রায় প্রতি রাতেই সাধারণ মানুষদের ওপর লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলে পড়ে। এরপর লাইন ভেঙে দিয়ে সে তার পছন্দমতো সিরিয়াল নিয়ে দেয়।

 

  • এভাবে সম্প্রতি শিমুলের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন ভিসার জন্য অপেক্ষামান সাধারণ মানুষ। যাদের মধ্যে অধিকাংশই থাকেন অসুস্থজনিত কারণে জরুরী ইন্ডিয়ান ভিসা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ।

 

তারা আরো অভিযোগ করে আরো জানান, ব্যাংকে প্রতিদিন ১০০ জনের সিরিয়াল গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ভিসা প্রত্যাশী থাকেন অন্তত ৫০০ জন। এ কারণে একদিন আগে থেকেই রাত জেগে সাধারণ মানুষ সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। আর সেই সুযোগে ভিসার আগে সিরিয়াল নিয়ে দিতেই শিমুল প্রতি রাতেই সাধারণ মানুষকে ধরে পেটান।

 

  • ফলে তার দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। আর অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

 

অভিযোগ উঠেছে, স্ট্যাট ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করেও শিমুল ভিসার দালালি করে আগে সিরিয়াল নিয়ে থাকেন। তাকে টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আবার টাকা দিলেই সহজেই মেলে ভিসার সিরিয়াল।

 

ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে আবুল কালাম, মুনসুর আলীসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ভিসার জন্য কারা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবে, এটাও যদি আগে থেকেই অনলাইনে ঠিক করে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। কিন্তু সেটা না করে একটি শ্রেণিকে বাণিজ্য করতে সুবিধা করে দিতেই শতশত মানুষকে ব্যাংকের সামনে প্রতিদিন দাঁড় করে রাখা হয়।

 

 

এতে করে ঝড়-বৃষ্টি, শীত এবং প্রচণ্ড গরম সব কষ্ট সহ্য করেই একদিন আগে থেকেই সাধারণ মানুষ রাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। আবার যারা শিমুলকে ২-৫ হাজার টাকা দিয়ে থাকেন, তারা ঠিকই আগে সিরিয়াল পান বা বা শিমু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে সিরিয়াল নিয়ে দেন। এভাবে রাজশাহীতে ভিসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এসে নিদারুন কষ্টের শিকার হচ্ছেন শতশত মানুষ।

 

আবার শিমুল ব্যাংকের ওই ভবনে কম্পিউটার নিয়ে বসে ভিসার সাক্ষতের সিরিয়াল বাণিজ্য করে থাকেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

 

স/আর