নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলায় আহত এক ব্যবসায়ীর চিকিৎসা সনদে আঘাতের প্রকৃত বিবরণ ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন উল্লেখ না করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করে প্রকৃত চিকিৎসা সনদ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রাজু আহাম্মদ ।

১৩ অক্টোবর দেওয়া অভিযোগপত্রে রাজু আহাম্মদ উল্লেখ করেন : তিনি রাজশাহীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে তাঁর আবাসিক হোটেল ব্যবসা রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই প্রতিপক্ষরা চাপাতি, রামদা, ছুরি ও চাকু নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁর মাথা ও নিতম্বে গুরুতর জখম হয়। লোহার পাইপ দিয়ে আঘাতের কারণে একটি চোখের চারপাশেও সিলায় পড়ে ৪ টি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১১৬১/৩০। ৩০ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
ওই দিন দেওয়া ছাড়পত্রে রোগের কারণ হিসেবে ‘মাইনর হেড ইনজুরি ডিউ টু ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট’ উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে রাজু আহাম্মদ দাবি : করেন হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া চিকিৎসা প্রতিবেদনে তাঁর শরীরের সব আঘাতের বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দাবি, মাথায় পাঁচটি, চোখের ওপর চারটি এবং বাম নিতম্বের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি, চারটি, তিনটি ও চারটি করে সেলাই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা সনদে শুধু মাথার চামড়া ও নিতম্বের একটি স্থানের আঘাতের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন : চিকিৎসা সনদে আঘাতগুলোকে ‘ইনসাইজড লুকিং উন্ড’ বা কাটা ক্ষতের মতো দেখতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ আঘাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আঘাতের মাধ্যম হিসেবে ভোঁতা বস্তুর কথা বলা হয়েছে। অথচ তাঁর দাবি, হামলায় রামদা, ছুরি ও চাকুর মতো ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
অভিযোগে সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সোবায়েব মোহাম্মদ রিয়াদের দেওয়া চিকিৎসা প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রাজু আহাম্মদ বলেন : আঘাতের প্রকৃত বিবরণ ও অস্ত্রের ধরন উল্লেখ না করায় তাঁর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের প্রভাব বিস্তারের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে রাজু আহাম্মদ তাঁর শরীরের আঘাত পুনরায় পরীক্ষা করে প্রকৃত বিবরণসহ চিকিৎসা সনদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা প্রতিবেদনে আঘাতের বিবরণ ও অস্ত্রের ধরন উল্লেখ না করার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।









