রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচি পালন

নিউজ ডেস্ক৩ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (বিসি) অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র-জনতা।

সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ তুলে ধরে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। একই সাথে সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এসময় তারা ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ-শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ছাত্র-জনতার দাবি একটাই-দুর্নীতিবাজ ভিসির পদত্যাগ চাই’, ‘জুলাই আন্দোলনের বাংলায়-দুর্নীতিবাজ ভিসির ঠাঁই নাই’, ‘এক দফা, এক দাবি-দুর্নীতিবাজ ভিসি করে যাবি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে উপাচার্যের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির রাম-রাজত্ব কায়েম করেছেন। টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ২ কোটি টাকার দুই হাজার গাছ কাটা, ১৯ কোটি টাকার পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীর আত্মসাৎ, গোপনে কোটি টাকার আম বিক্রি, পুকু ও ফসলি জমির লিজ এবং দোকান ভাড়াসহ প্রকল্প এলাকার কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, উপাচার্য ৭৭৭ কোটি টাকার পাঁচটি ভবন নির্মাণের টেন্ডার পছন্দের ঠিকাদারকে দিতে ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজ পক্রিয়রমেন্ট কনসালটেন্টের সমন্বয়ে মূল্যায়ন কমিটির করেছেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে এসব টেন্ডার থেকে ঠিকাদারের নিকট ৯ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেনাকাটার টেন্ডারেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিধি বহির্ভূতভাবে সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদারকে লিথো ও ওএমআর পেপার সরবরাহের কার্যাদেশ দিয়েছেন উপাচার্য।

এসময় বক্তারা উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও করেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ইউজিসির নীতিমালা ও সরকারি বিধি উপেক্ষা করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিহীন ব্যক্তিদের রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক ও পরিচালকসহ ৯টি উচ্চপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং কলেজ পরিদর্শককে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৯ম গ্রেডের অফিসার নাজমুল হোসেনকে ৫ম গ্রেডে ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) নিয়োগসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য।

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতেই চলমান সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং বালু ও মাটি ভরাটের কাজে কারিগরি ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে বাস্তবায়ন তদারকি ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। উপাচার্য ও পরিবারের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান বক্তারা। তারা বলেন, আওয়ামী চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের ঘনিষ্ঠ এই উপাচার্য তৎকালীন সময়ে একাই রামেবির সাত পদ দখল সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে শুরু থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পরবর্তী ইন্টেরিম সরকারের আমলে ভোল পাল্টে তৎকালীন বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সুপারিশে উপাচার্য পদে নিয়োগ লাভ করেন ডা. জাওয়াদুল হক।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি শামসুল হোসেন মিলু, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামিম ও মহানগর তাঁতী দলের সভাপতি মো. কাজল, রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন ( ড্যাবের) সদস্য ডাক্তার রানা, ডাক্তার সিফাত ও মেহেদি র নেতৃত্ব দল ,ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামসহ রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।