নওগাঁ

মান্দায় চাঁদাবাজি ও অপহরণের পাল্টাপাল্টি অভিযোগঃ উত্তপ্ত কুলিহার বাজার

নিউজ ডেস্ক২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুলিহার মোড় এলাকায় চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর ও অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিবেশ। একদিকে ব্যবসায়ী এমদাদুল হক থানায় চাঁদাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ করলে, অন্যদিকে অপর পক্ষের আশরাফুল ইসলাম একটি অপহরণ ও মুক্তিপণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।এতে করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, কুলিহার মোড়ে “এমদাদুল অটোজ” নামে মোটরসাইকেল মেরামতের একটি দোকান চালান এমদাদুল হক। তার অভিযোগ, একই এলাকার আলমগীর হোসেন, তারেক রহমান ও আশরাফুল ইসলামসহ ১০-১৫ জন তার দোকানে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এরপর তারা দোকানের মবিল ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল এবং একটি ভিভো ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দোকানে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন এমদাদুল।

অন্যদিকে, চকগোপাল গ্রামের অভিযুক্ত পক্ষের আশরাফুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগে বলেন, তার ছোট ছেলে আলমগীরকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুলিহার বাজার থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করা হয়। তাকে গলায় ছুরি ধরে ব্ল্যাকমেইল করে একটি নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়। মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে তার বড় ছেলে আসলাম হোসেন ৫.৫ লাখ টাকা একটি ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে এ ঘটনা স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে জানান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী তারেক বাহিনীর সদস্য ইউসূফ আলী নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে এবং অপহরণ হওয়া যুবক আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দোকান ভাংচুরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এমদাদুলের মামলায় আলমগীরকে আটক দেখানো হয়। অপরদিকে, আলমগীরের বাবা আশরাফুলেরর মামলায় গোবিন্দপুর গ্রামের তারেকের সহযোগী ইউসূফ আলীকেও আটক দেখিয়ে উভয়কে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।  অথচ, আশরাফুলের নেতৃত্বে আলমগীর, তারেক ও ইউসূফ আলীসহ ১৫-২০ দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। যার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যায়।
দোকানের মূল মালিক ইলশাগাড়ি গ্রামের রমজান আলীর ভাগ্নে মনিরুল ইসলাম মিলন বলেন, উপজেলার চকগোপাল গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এমদাদুল হক,প্রায় ২৫ বছর ধরে কুলিহার মোড়ে মোটরসাইকেল মেরামতের ব্যবসা করে আসছেন।

দোকানটি তার মামার কাছ থেকে ভাড়া নেয়। তার মামার মৃত্যুর পর তার মামাতো ভাই আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের প্রবাসী জাইদুর রহমান গংয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। ওই বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার দুপুরে জাইদুর রহমানের ভাগ্নে আলমগীর হোসেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে গোবিন্দপুর গ্রামের তাহেরের ছেলে সন্ত্রাসী তারেকসহ ১৫-২০ জনের একটি কিশোর গাংয়ের সদস্যদের ভাড়া করে।

চুক্তি মোতাবেক নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর আলমগীরের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদুলের দোকানে হামলা চালায়। এসময় তারা দোকান ঘেরাও করে অতর্কিতভাবে ভাঙচুর শুরু করে এবং দোকানের মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করে নেয়।

এতে আলমগীরের প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে তারেক গংরা  আলমগীরের নিকট বাঁকি ১ লক্ষ টাকা চাওয়ায় অপহরনের নাটক সাজায় আলমগীরের পরিবার।

মিলনের দাবি যে, দোকান  ভাংচুর,লুটপাটও  চাঁদাবাজির মামলা থেকে রেহাই পেতে আলমগীরের বাবা আশরাফুল ইসলাম  একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ওই  মামলায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর জন্য ২ নং আসামী করা হয়েছে।

অপহরণের ঘটনায় তার কোন সম্পৃক্তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “হামলার সময় এমদাদুল দোকানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় তাকে অস্ত্রেও মুখে জিম্মি করে তারা যা পেয়েছে, তা-ই ভেঙে তছনছ করে নিয়ে গেছে। এখন সে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ঘটনার পর স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হামলা চালালেও এখন তাদের মধ্যে অনেকে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত

মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ঘটনার জেরে কুলিহার ও গোবিন্দপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ী মহলে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।