ভ্রমণ

ব্রহ্মপুত্রের বুকে ঈদ আনন্দের নৌকা

নিউজ ডেস্ক২৪ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ঈদের আনন্দ যেন শেষ হতেই চাইছে না। ঢাকা কিংবা অন্য এলাকাগুলো থেকে যারা এসেছিলেন তাদের অনেকেই ফিরে গেছে কর্মস্থলে। তবে বড় একটি অংশ এখনো রয়ে গেছে। স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তারা সময় পেলেই ছুটছে নির্মল আনন্দ আর বিনোদনের খোঁজে।

জেলা শহরের পৌরপার্ক, এসকেএস ইন, শহরতলীর মাটির নিচে তৈরি ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার কিংবা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মওলানা ভাসানী তিস্তা সেতু—সবই মানুষে ভরা। তবে তাদের প্রায় সবারই প্রথম পছন্দ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দৃষ্টিনন্দন বালাসীঘাট।

সকাল, দুপুর, বিকেল এমনকি রাত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকা ভাসিয়ে কিংবা সংলগ্ন চরগুলোতে নেমে মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করছে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেঘলা আকাশ, বহুদুর থেকে ভেসে আসা মেঘের গর্জন, বৃষ্টির আশঙ্কা- সবকিছু উপেক্ষা করে খেয়া নৌকায় অথবা নৌকা রিজার্ভ করে ছুটছে তারা।

কারো ভালো লাগা নদের বুকে ভেসে থাকা; কেউ কেউ ফুলছড়ির চর, উজালডাঙ্গা, গুপ্তমনি’র মতো কাছে পিঠের চরগুলোর বালুচরে ভুট্টা ক্ষেতের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছে। মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলে ভরিয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। টিকটকেও পিছিয়ে নেই কিশোর তরুণ-তরুণীরা।
প্রবীণ জহুরুল মাঝি বলেন, ঈদের একদিন আগে শুরু হয়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা।

নৌরুটে চর জেগে ওঠায় দূরপাল্লার যাত্রা কমে গেছে। ফলে কমেছে আয়ও। ঈদের ছুটির অবসরে ঘুরতে আসা এসব মানুষই পুষিয়ে দিচ্ছে সেই ঘাটতি। মাঝিরা একদলকে চরে রেখে যাত্রী নিয়ে ফিরে আসছেন ঘাটে। আবার যাচ্ছেন অন্য জায়গায়।

ভাড়া ৪০ থেকে ৮০ টাকা। আবার ঘণ্টা হিসেবে ৩০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। মাঝিরা আরো অন্তত এক সপ্তাহ ব্যস্ত সময় পার করবেন। ঈদের সময় নৌকা চালিয়ে প্রতিদিন আট থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন মাঝি ও নৌকা মালিকরা।
ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রায়হান চৌধুরী বললেন, ফুলছড়ির চরটি অনেক বড়। নামলেই ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে তৈরি থাকেন কোচোয়ানরা । ভুট্টাক্ষেতের ভেতর দিয়ে সরু রাস্তা। ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই দিন পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসেছি। দুই-তিনশ টাকা এই আনন্দের বিপরীতে কোনো বিষয়ই না। তিনি বলেন, বাচ্চারা শহরের একঘেঁয়ে জীবনের বাইরে এসে ভারি খুশি।

সংস্কৃতিকর্মী শিরিন আকতার স্থায়ীভাবে গাইবান্ধায় থাকেন। ঈদে বান্ধবীদের সঙ্গে এসেছেন বালাসী ঘাটে। তিনি বলেন, ঘাট এলাকায় বসেছে অস্থায়ী মেলার আমেজ। ফুসকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, আইসক্রিমসহ নানা খাবারের দোকান। এছাড়া ছোটদের খেলনার দোকান যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। নাগরদোলা তো আছেই। উৎসবমুখর এমন পরিবেশে মন ভরে যায়।

শিরিন আকতার আরো বলেন, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের এই বালাসীঘাট সারা বছর ভ্রমণপ্রিয় মানুষে মুখর থাকে। তবে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায় যে কোনো উৎসবের সময়। সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে এখানে। তবে দুপুরের পর তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ভিড় থাকে অনেক রাত পর্যন্ত।

বালাশীঘাটের ব্যবসায়ী সাইদুল মিয়া বলেন, ব্রহ্মপুত্রের এই বালাসীঘাট একসময় ছিল রেলওয়ে ফেরিঘাট, যেখানে ট্রেন থেকে নেমে ফেরিতে করে নদী পার হয়ে দেওয়ানগঞ্জ গিয়ে আবার ট্রেন ধরতো যাত্রীরা। নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে ১৯৯৮ সালে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে হারিয়ে যায়নি এই ঘাটের আকর্ষণ। এখন প্রকৃতিই টেনে আনে মানুষ।

গাইবান্ধা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাটে অটোরিকশায় সহজেই যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা।