সিল্কসটিনিউজ ডেস্ক:
নওগাঁর আত্রাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের বাধার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর সরকারি গাড়ি আটকে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা ও বাল্যবিয়ে আয়োজনের অভিযোগে আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামে এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর সরকারি গাড়ির গতিরোধ করেন।
খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকজন প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইউএনও আরও বলেন, বাল্যবিয়ে আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট









