রাজশাহীর খবর

বাবার লাশ মর্গে: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় আহত দুই ছেলেকে যেতে হলো থানা হাজতে

নিউজ ডেস্ক১৩ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘কিছুই বুঝতে পারলাম না। ডাক্তারদের অবহেলায় মরলো রোগী আবার সেই প্রতিবাদ করায় ছেলেদের ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ। এটা কেমন দুনিয়া, আর এটা কি করে সম্ভব? এমনিতেই তাদের পরিবারে উপরে আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। তার পরে আবার এই অবস্থা। বাবা হাসপাতালের মর্গে আর দুই ছেলেকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আর মা আহত অবস্থায় পড়ে আছে।’

 

  • আজ রোববার বিকেলে ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত মহাসিনের স্বজন শামিম হোসেন এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন।

 

স্বজন শামিম হোসেন জানান, ‘গত পরশু দিন দুপুরের দিকে বাইসাইকেল ও পাওয়ারট্রলির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মহাসিন আলী আহত হন। তাকে সেইদিন উদ্ধর করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে মারা যান।

 

পরে ছেলে আনারুল ইন্টার্নি ডাক্তারদের বলতে গেলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় ডাক্তাররা মহসিনের দুই ছেলে ও স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর ওই চিকিৎসকরা মহসিনের দুই ছেলেকে আটকে রাখে। ভয়ে আঙ্কে পালিয়ে যান মহসিনের স্ত্রী রাহেলা বেগম এবং মেয়ে।পরে পুলিশ এসে দুই ছেলেকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানা হাজতে নিয়ে যায়। আর মৃত মহসিনের লাশ উদ্ধার করে রামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারদের এমন ব্যবহার হলে কোন দিন কোন রোগী ভালো হবে না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানুষ মারা যেতেই পারে। রোগী মারা গেলে সেটা নিয়ে রোগীর স্বজনরা একটু হিৎকার-চেঁচামেচি করবেন, এটাই স্বাভাবিক তাই বলে তাদের ধরে দলবল নিয়ে পেটাবে এটা হতে পারে না। এর বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু উল্টো মৃত রোগীর স্বজনদেরই পুলিশ বারবার ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ কোন দেশ, এ কোন আইন?

 

এর আগে রবিবার দুপুরে মহসিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনায় দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন, রফিকুল ইসলাম (৪০) ও আনারুল ইসলাম (৩০)। আর এ ঘটনায় মা রাহেলা বেগম (৬০)।

 

  • রোববার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যূ হয়। স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তারদের অবহেলায় মারা যান মহসিন আলী। এ নিয়ে মহসীন আলীর স্বজনদের সাথে ডাক্তারদের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দলবল নিয়ে লাঠিসোটা হাতে রোগীর স্বজনদের উপর হামলা চালায়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং রামেক ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু ও রায়হানের সাথে হাতাহাতি হয় মহসীন আলীর ছেলে আনারুল ও রফিকুল ইসলাম বাবুর সাথে। এরপর দলবল নিয়ে লাঠসোটা হাতে তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে অপু। এ ঘটনার পর ওই ওয়ার্ডে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্য রোগীর স্বজনেরা তাদের রোগীদের নিয়ে দিকবিদিক পালিয়ে যায়। পরে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয় ডাক্তাররা।

 

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানাউল্লাহ জানায়, বাবা মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে ইন্টানী ডাক্তারদের মধ্যে মারা মারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের বর্তমানে রাজপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

স/আর