রাজশাহীর খবর

বাঘার বাজারে নতুন পাট: দাম পেয়ে খুশি চাষীরা

নিউজ ডেস্ক১৯ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

আমানুল হক আমান, বাঘা:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মাঠে মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং পাট শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। তবে শুরুতে ভালো দাম পেয়ে চাষীরা খুশি। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় দুই হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার চাষীরা ৫৫০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। গতবার চাষ হয়েছিল দুই হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। এবার পাট চাষে মোটামুটি অনুকূল আবহাওয়া ছিল। কিন্তু শুরুর দিকে কোনো কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাতে কিছু রোপন করা পাট নষ্ট হয়েছিল। বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং পাট আঁশ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।
গত রোববার উপজেলার দিঘা হাটে পাট বিক্রি করতে আসেন দিঘা গ্রামের মকুল হোসেন। তিনি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙ্গল, বীজ সেচ, কাটা, পরিস্কার করা, সারসহ যাবতীয় খরচ হয় সাড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ। বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকায়।
চকরাজাপুর চরের পাট চাষী আমিরুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, জমিতে পানি থাকায় পাটগাছ কাটা শ্রমিকদের অনেক বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। গতবার পাট চাষ করে লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার লোকসান হবে না বলে তিনি জানান। বর্তমান বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাটের দাম এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাটের ফড়িয়া ব্যবসায়ী দিঘা গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, এই এলাকার চাষীরা খুব একটা যতœ নিয়ে পাট ধোয়ার কাজ করে না। এতে করে অন্য জেলার পাটের মানের চেয়ে আমাদের পাটের মান ও রং ভালো হয় না।
পাট ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, নওগাঁয় প্রতিমণ পাটের দাম এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা বলে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এ এলাকার পাটের মান ভালো না হওয়ার কারনে দাম তুলনামূলক কম পায় চাষীরা।
পাট সংরক্ষণকারী দিঘা গ্রামের ব্যবাসায়ী আজিজুল হোসেন বলেন, এবারে প্রতিমণ পাট বেশি দরে কিনতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবার অন্য এলাকার কম চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে স্থানীয়ভাবে পাটকল। এছাড়াও বিভিন্ন মোকামে পাটের টান রয়েছে।
আড়ানী মনোমোহীনি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসান জুয়েল বলেন, সরকারিভাবে খাদ্য বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পাটের ব্যাগ ব্যবহার করে না। যদি সার কারখানা, চিনিকল, সিমেন্ট কারখানা, চাল ও আটাসহ বেশিরভাগ কারখানার পণ্য সরবরাহ করা হলে পাটের দাম আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। আবার বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের জন্য দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে যেত না। বেঁচে যেত দেশীয় পাট শিল্প।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, পাটের জমিতে কিছু পানি থাকলে আঁশের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে অপরিপক্ক পাট কাটলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বর্তমান বাজারে ওঠা পাটগুলো হয়তো পরিপক্ক হওয়ার আগে কাটা হয়েছে ফলে ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। এছাড়া পাট ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাট কিনতে লাগলে দাম আরও বাড়বে।

স/আর