নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশের আগেই অপরিপক্ব আম পাড়ার হিড়িক পড়েছে। অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম সংগ্রহ করে কেমিক্যালের মাধ্যমে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহ থেকেই অনেক বাগানে আগাম আম পাড়ার তোড়জোড় চলছে। অথচ অধিকাংশ বাগানেই এখনও আম পুরোপুরি পাকেনি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) পৌর এলাকার বালিহার এলাকায় দেখা যায়, ভ্যানগাড়িতে করে আম নিয়ে যাচ্ছেন লালটু আলী নামে এক ব্যবসায়ী। আম পাড়ার অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো গুটি জাতের আম, এখনো পাকেনি। আচার তৈরির জন্য এগুলো ঢাকা পাঠানো হবে।’ একই চিত্র দেখা গেছে আড়পাড়া গ্রামেও।
সেখানে রমেজ উদ্দিন নামের এক ব্যাপারী দাবি করেন, ‘গুটি আম পাড়তে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, আগাম পাড়া এসব আমের বড় অংশই কেমিক্যাল ও রঙ দিয়ে পাকিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়।
এদিকে রাজশাহীর বৃহত্তম আমের হাট হিসেবে পরিচিত বাঘা বাজারে এখনও তেমন জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়নি। তবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গোপনে কিছু আম কেনাবেচা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ফড়িয়া ব্যবসায়ী দেলশাদ জানান, আম পাড়ার আনুষ্ঠানিক সময়সূচি না আসায় প্রকাশ্যে আম বিক্রি হচ্ছে না। অনেকেই আচারের আমের কথা বলে ঢাকার পাইকারদের কাছে গোপনে আম সরবরাহ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আবহাওয়া ও মাটির ভিন্নতার ভিত্তিতে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যে আগামী ১০ মে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করবে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। ওই সভায় চলতি মৌসুমের ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হবে।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রকাশের আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ। অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম পাড়া ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মি আক্তার জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কৃষি বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১০ মে’র সভায় আম পাড়ার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর আগে আম নামানো হলে তা প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।’









