নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর পবা উপজেলায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্প এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

আয়োজকেরা জানান, ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, বুলিং ও যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটি গড়ে তোলা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। রাজশাহীসহ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক শিল্পখাত, গণপরিবহন এবং বিভিন্ন কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে রোধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকি ম্যাপ তৈরি, অভিভাবক সভা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন এবং যুব ফোরাম গঠনের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় ‘শিখা’ প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিতা রানী সরকার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সভা পরিচালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মো. মহসিন আলী, মানবসম্পদ বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক সহকারী পরিদর্শক ফারজানা ফেরদৌসি, সমাজসেবা বিভাগের ফিল্ড সুপারভাইজারসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম হান্না বলেন, ‘শিখা প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা যৌন হয়রানি সম্পর্কে সচেতন হয়েছি। আগে স্কুলে যাতায়াতের পথে অনেক সময় বাজে মন্তব্যের শিকার হতাম। আমরা নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ চাই।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অরিয়েন্টেশন সভা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও তরুণদের জন্য আরও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।









