রাজশাহী

পদ্মায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি: সঙ্গে আতঙ্ক ও বন্যা

নিউজ ডেস্ক২৭ আগস্ট ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পদ্মায় আশঙ্কাজনক হারে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। যা কখনো কখনো ঘন্টায় তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এর ফলে পদ্মায় এখন বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্কা। আবার ক্রমেই রাজশাহীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা দিচ্ছে বন্যা।

 

এরই মধ্যে রাজশাহীর পবান, মাঝ চর, চার খানপুর, খিদিরপুর, বাঘার চর আতারপুর, চর লক্ষীপুর, চর নারায়নপুরসহ ১৫টি চর ডুবে গেছে পানিতে। এসব এলাকায় বানভাসি মানুষদের মাঝে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
তবে এই বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

 

মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত রাজশাহীতে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পায় সব মিলিয়ে ৪৫ সেন্টিমিটার। এর ফলে পদ্মায় বিপৎসীমার এখন ২০ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

 

  • গতকাল দুপুরে পদ্মায় রাজশাহীতে পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। যা সন্ধ্যায় গিয়ে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। অথচ সকাল ছয়টায় ছিল ১৮ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার।

 

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, ‘এখন বর্ষা কাল। সেই হিসেবে পদ্মায় স্বাভাবিক হারেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাঝে কয়েকদিন পানি কমে গিয়েছিল। এখন আবার সেটি বাড়ছে এটা ঠিক। বর্ষাকালে এমনটি হতেই পারে। তবে ফারাক্কা বাঁধের গেট ছেড়ে দেওয়ার কারণেও পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ নিয়ে কোনো আশঙ্কার কিছু নাই বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

Rajshahi photo-26-08-16-2 copy
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ লিডার শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় পদ্মায় পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। যা ওইদিন বিকেলে ৬ টায় গিয়ে  দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার।

 

  • গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টায় সেটি গিয়ে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার এবং দুপুর দুইটার দিকে পহেটি হয় ১৮ দশমিদক ৩০ সেন্টিমিটার। মন্ধ্যা ছয়টায় সেটি গিয়ে ঠেকে ১৮ দশকি ৩১ সেন্টিমিটারে। আজ শনিবার সকালে আরো বৃদ্ধি পায় পানি। এর ফলে পদ্মা বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমার থেকে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে পদ্মায় পানি প্রবাহ ছিল ১৭ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। সেটি ওইদিন বিকেল ৬টায় বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিদক ৯৪ সেন্টিমিটার। পরের দনি বুধবার সকালে সেই পানি বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়ায় ১৮ দশমিদক ৫ সেন্টিমিটার। আবার বিকেল ৬টায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার।

Rajshahi photo-26-08-16-4 copy
এদিকে বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, ভারতের বন্যার কারণে বিহার অঞ্চলে দুই লাখ মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে ফারাক্কা বাঁধের মাত্র ৪টি গেট বাদে বাকি ১০০টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রভাবে পদ্মায় বাংলাদেশ অঞ্চলে ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে করে বন্যা আতঙ্কও দেখা দিয়েছে পদ্মা তীরবর্তি মানুষের মাঝে।

  • এরই মধ্যে রাজশাহী নগরীর পশ্চিমাঞ্চলের দিকে পদ্মা নদীর শহর রক্ষা বাঁধ পড়েছে নতুন করে হুমকির মুখে। বাধ ঠেকাতে আবার নতুন করে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। নগরীর পূর্বাঞ্চলের কাজলা ও তালাইমারী এলাকার নিম্নাচলগুলো বেশকিছু বাড়ি-ঘর এরই মধ্যে তলিয়েও গেছে।

 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে পদ্মা বিপৎসীমা অতিক্রমের পাশাপাশি নিম্নাচলগুলো আরো বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
নগরীর তালাইমারী এলাকার বাসীন্দা মখলেছুর রহমান বেগম বলেন, এরই মধ্যে তার দুটি ঘর পানিতে ডুবে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে আশেপাশের লোকজনের বাড়ি-ঘরও দ্রুত ডুবে যাবে। আবার বাধও হুমকির মধ্যে পড়বে। পানির তোড়ে বাধ ভেঙে গেলে গোটা রাজশাহী নগরীসহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন অনেকেই।

স/আর