রাজশাহী

পদ্মার বুকে সবুজের মায়াবী মাঝচর, দেখতে ছুটছেন শত শত দর্শনার্থী

নিউজ ডেস্ক১৫ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ মাঝচরের সবুজ সৌন্দর্য এখন টানছে শত শত দর্শনার্থীকে। চারদিকে সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ মাঠ, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট জলাশয়, তার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘরবাড়ি—সব মিলিয়ে মাঝচরটি যেন প্রকৃতির আঁকা এক অপূর্ব ছবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কারণে এর সৌন্দর্য এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রাজশাহী নগরী থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে পবার হরিয়ান ইউনিয়নে পদ্মা নদীর মাঝখানে এই মাঝচরের অবস্থান। এখানে বসবাস করেন অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার। নদীর বুকেই তাদের বসতি, জীবন-জীবিকাও নদীকে ঘিরে। তবে এই বসতি স্থায়ী নয়।

স্থানীয বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর পদ্মার পানি বাড়লে মাঝচরটি পানিতে ডুবে যায়। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি চলে যায় পানির নিচে। পানি কমে গেলে আবার জেগে ওঠে চর, নতুন করে শুরু হয় মানুষের বসতি ও জীবনযাত্রা।

ছাহোলা খাতুন নামের এক নারী বলেন, এবার এখনো মাঝচরটি পানিতে ডুবে যায়নি। তাই তারা এখনো বসবাস করছেন চরেই। নদীতে পানি বেড়ে গেলে চর ডুবে যাবে। তখন মালামাল নিয়ে ওপারে ফিরতে হবে।” এদিকে, পানি না উঠায় বর্ষার এই সময়ে এর বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর এখনো দৃশ্যমান। দূর থেকে তাকালে দেখা যায়, সবুজের মাঝখানে ছোট ছোট বসতঘর। কোথাও খড়ের তৈরি গোলা, কোথাও বাঁশের বেড়া, আবার কোথাও টিনের ঘর। বসতবাড়ির চারপাশে রয়েছে নানা ধরনের গাছপালা ও সবুজ ঘাস।

প্রকৃতির এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই মাঝচরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নৌকায় করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসছেন। কেউ ঘুরে দেখছেন মাঝচর, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে মাঝচরটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ছে। দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের কেউ কেউ এই স্থানকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।

চরে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থী আনোযার হোসেন বলেন, সবুজের বিস্তীর্ণ মাঠ, নদীর আবহ আর মাঝচরের ছোট ছোট বসতঘর মিলে এখানে তৈরি হয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাফর ইবনে আলম প্রমিজ বলেন, সৌন্দর্যের পাশাপাশি মাঝচরের মানুষের জীবন রয়েছে অনিশ্চয়তায় ঘেরা। প্রতিবছর নদীর পানি বাড়লে তাদের বসতভিটা ডুবে যায়। আবার পানি নেমে গেলে নতুন করে ঘর বাঁধতে হয়। নদীর ভাঙন ও পানির সঙ্গে লড়াই করেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা বসবাস করছেন এই চরে।

দর্শনার্থীদের কাছে মাঝচরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে পদ্মার বুকের এই সবুজ প্রান্তর তাদের দিচ্ছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা। নদীর বাতাস, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর চরবাসীর সহজ-সরল জীবনযাপন মুগ্ধ করছে আগতদের।

প্রকৃতির রূপ আর মানুষের সংগ্রামের এমন মেলবন্ধনই পদ্মার মাঝচরকে করে তুলেছে আলাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে নতুন করে পরিচিতি পাওয়া এই মাঝচরে এখন প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।